ডেক্সরিপোর্ট প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য শুক্রবার থেকে ‘পার্সেল এক্সপ্রেস’ নামে বিশেষ লাগেজভ্যান ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা দিয়ে ঢাকায় আনা হবে কৃষিপণ্য।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সবজি ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহনের জন্য এই ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গণপরিবহন যতদিন বন্ধ থাকবে যাত্রীবাহী ট্রেনও ততদিন বন্ধ থাকবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান জানান, এক একটি পার্সেল ট্রেনে ভ্যান থাকে ১০-১২টি যাতে পণ্য ধরে ২৩০-২৪০ টন। যদি এই পরিমাণ পণ্যের চাহিদা অন্য কোনো রুটে পাওয়া যায় তবে সেই রুটেও এই পার্সেল এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হবে।
তিনি বলেন, এসব লাগেজ ট্রেন যাত্রাপথে থেমে বিভিন্ন স্টেশন থেকে কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি, চাল, ফলমূল নিয়ে ঢাকায় আসবে। যাতে এই সময়টিতে অন্তত খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। এই ট্রেনে পোল্ট্রি, ডিমসহ ঢাকায় আসবে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত বলেও জানান তিনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বিকেল ৪টায়। আবার ঢাকা থেকে রাত ১০টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়বে। পথে গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশন ধরবে এ পার্সেল এক্সপ্রেস ট্রেন।
পার্সেল এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে বিকেল ৪টায় দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে। দেওয়ানগঞ্জ থেকে রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে প্রতিদিন। পথে গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশন ধরবে ট্রেনটি। তবে ঢাকা-যশোর রুটের শিডিউল এখনো দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুপাতে ট্রেনের সংখ্যা ও কোচ সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। ধারাবাহিকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও এই ধরনের ট্রেন চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে মালবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল।