ডেক্সরিপোর্ট বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশকে সবসময়ই রক্ষা করে আসছে দেশের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। সুন্দরী-গেওয়াসহ নানা বৃক্ষের মজবুত বেষ্টনি আর অসংখ্য নদীনালা বছরের পর বছর ধরে প্রাণী ও সম্পদ রক্ষা করে আসছে। নিজে ক্ষত-বিক্ষত হলেও উপকূলের তেমন ক্ষতি হতে দেয়নি।
সুন্দরবন কতবার যে ঘূর্ণিঝড়, ঝড়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ থেকে রক্ষায় এবারও বুক পেতে দিল সুন্দরবন।

বুধবার তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উঁচু জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলজুড়ে তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১১২ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হেনেছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা তান্ডব চালিয়ে রাত ১২টার দিকে খুলনা জেলাকে অতিক্রম করেছে আম্পান। এবারও উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করতে বুক চিতিয়ে লড়াই করলো সুন্দরবন।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছোবল থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় সুন্দরবন যে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করায় আম্পানের তাণ্ডব কিছুটা কম হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করতে বুক চিতিয়ে লড়াই করলো সুন্দরবন।
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে এর আগেও ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সুন্দরবন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫শে মে ঘূর্ণিঝড় আইলার তান্ডব থেকে এই বন উপকূলকে রক্ষা করেছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও ফণি থেকেও রক্ষা করেছে সুন্দরবন।