ডেক্সরিপোর্ট ‘আল্লাহর কসম ভাই, আমি ভাগব না, খোদার কসম ভাই, ভাগব না। আমাকে রশি দিয়ে বাঁধবেন না’।
খাসিয়াদের কাছে এভাবেই আকুতি জানাতে থাকেন পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর।
যখন তাকে খাসিয়ারা আটক করে তখন তার মুখে চাপ দাঁড়ি, গলায় মালা ছিলো। তিনি খাসিয়াদের বেশভূষা ধরে ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি।
খাসিয়ারা তাকে পায়ে ও কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে আটকে রাখে। পরে তাকে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আটকের সময় খাসিয়ারা আকবরকে জিজ্ঞেস করেন, ১০ হাজার টাকার জন্য কেন একজনকে মেরে ফেললে? তখন উত্তরে আকবর বলেন, ‘আমি মারি নাই’।
কোন অপরাধে রায়হানকে মারা হলো জানতে চাইলে আকবর বলেন, ‘আমি মারিনি ভাই, আমি ইচ্ছা করে একা মারিনি। তারে মেরেছে ৫-৬ জন। পাবলিক মেরেছে তাই সে মরে গেছে। আমি বরং তাকে হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু ওখানে সে মারা যায়। সে টাকা ছিনতাই করেছিলো।’
এসময় স্থানীয় অপর একজন বলেন, ‘আর তার জান তোমরা ছিনতাই করেছ?’
উত্তরে আকবর বলেন, ‘ভাই, আমরা জান নেইনি, বরং আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়েছি।’
পালিয়েছ কেন এমন প্রশ্নের জবাবে খাসিয়াদের আকবর বলেন, ‘আমারে এক সিনিয়র অফিসার বলেছেন সাসপেন্ড করেছে। গ্রেপ্তার করতে পারে। তাই তুমি আপাতত চলে যাও। কদিন পরে আইসো। দুই মাস পর সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন আইসো।’
সূত্রমতে, গত রবিবার গভীর রাতে ভারতের দনা সীমান্ত এলাকার খাসিয়াদের হেডম্যানরা আকবরকে আটক করে। পরে সোমবার বেলা একটার দিকে আকবরকে বাংলাদেশ সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় লোকজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয় খাসিয়ারা। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের একটি টিম তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।
এ ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।
ঘটনার পর রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।