সংবাদ ডেক্সঃ পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করায় দুই ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিনন্দন নামে এক পাইলটকে আটক করে পাক সেনারা।
বর্তমানে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেফাজতে আছেন।
বুধবার আটক হওয়া অভিনন্দনকে আটকের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।
তারা সেখানকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাজ্জাক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বর্ণনা তুলে ধরেছে।
রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী রাজ্জাক নিয়ন্ত্রণরেখার সাত কিলোমিটার ভেতরে আজাদ কাশ্মীরের ভিমবার জেলার হোরান গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি জানান, বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি তার বাড়ির আঙিনায় ছিলেন। এ সময় আকাশে তিনি ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি ভালোভাবে তাকাতেই দুটি বিমানে আগুন লাগা দেখতে পান।
একটি বিমানের আরোহী নিয়ন্ত্রণরেখা পার হয়ে চলে যান। আরেকটিতে আগুন লেগে দ্রুত নিচে নামতে থাকে।
তার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় তিনি প্যারাস্যুট নিয়ে একজনকে দক্ষিণ দিকে নামতে দেখেন।
পাইলট দ্রুত একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কিছু কাগজ ও মানচিত্র গিলে ফেলেন। ওই পাইলট প্যারাসুটে নামার সময় নিরাপদ ও সুস্থ ছিলেন।
এ সময় রাজ্জাক কিছু তরুণদের ডেকে পাঠান এবং তাদের বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা না আসা পর্যন্ত তোমরা ওই বিধ্বস্ত বিমানের কাছে যেও না। তবে তোমরা ওই পাইলটকে আটক কর।
ওই তরুণরা পাইলটের কাছে গেলে পাইলট (অভিনন্দন) তাদের জিজ্ঞেস করেন, এটি কী ভারত না পাকিস্তান? এ সময় পাইলটের কাছে একটি পিস্তল ছিল।
তরুণরা একটু বুদ্ধি খাটিয়ে তাকে বলে, এটি ভারত। এ কথা শুনেই আনন্দে তিনি ভারতের স্লোগান দিতে থাকেন।
এর পর পাইলট অভিনন্দন ওই তরুণদের আবারও জিজ্ঞেস করেন, এটা ভারতের কোন স্থান। তখন ওই একই তরুণ বলেন, এই স্থানের নাম কিলান।
তখন পাইলট নিজেকে আহত বলে জানান এবং তাদের কাছে পানি পান করতে চান।
এ সময় কিছু আবেগপ্রবণ তরুণ পাকিস্তান সেনাবাহিনী নামে স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানে অভিনন্দন পিস্তল বের করেন। তখন ওই তরুণরা পাথর হাতে তুলে নেন।
অভিনন্দন দৌড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে যে তরুণরা তাড়া করছিলেন, তাদের দিকে পিস্তল তাক করে শূন্যে গুলি ছোড়েন অভিনন্দন। পরে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দেন।
তরুণরা তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এ সময় এক তরুণ তার পায়ে আঘাত করেন।
পরে এই বৈমানিক তাকে মেরে না ফেলার আহ্বান জানান। কয়েক তরুণ তার দুই হাত ধরে ফেলেন। কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন। কয়েকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় পাকিস্তানের সেনারা চলে আসেন এবং তাকে তাদের হেফাজতে নেন।