নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশালে ভেজাল খাদ্য দ্রব্য প্যাকেটজাত করার সময় অভিযান চালিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় প্লাস্টিকের বোতল এবং টিনের কৌটা সহ বিভিন্ন কোম্পানীর নকল ও ভেজাল পন্য জব্দ করা হয়। তবে গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান পরিচালিত হওয়া ঘরটি পুলিশ আটকে দিয়েছে। তবে এখনো এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা হয়নি।
সোমবার সকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রোববার রাত সাড়ে ১১টায় নগরীর সিএন্ডবি ১নং পুল সংলগ্ন ইসলামপাড়া এলাকার সবুজ ভিলায় নগর পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্যমতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ফুডি নামের একটি কোম্পানীর মোড়কে কাগজের প্যাকেট, প্লাস্টিকের ছোট বোতল এবং টিনের কৌটায় সবুজ ভিলার নিচতলায় বসেই ইস্ট, কাস্টার্ড পাউডার, কালো গোল মরিচের গুড়া, কেক ডেকরোশেন, কোকো পাউডার, কর্ন ফ্লাওয়ার, আইসিং সুগার, আইসক্রিম পাউডার, ফুচকা মসলা, ব্যানানা ফ্লাভার, ওরেঞ্জ ফ্লেভার, চকলেট ফ্লেভার, স্ট্রবেরি ও ভেনিলা ফ্লাভার, কেওড়া জল, গোলাপ জল, বিট লবন পাউডার, আগার আগার সহ ১৭টির অধিক ভেজাল পন্য প্যাকেটজাত করা হয় এখানে বসে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাতে নাতে টিনের কৌটায় অপরিচ্ছন্নভাবে বেকিং পাউডার প্যাকেটজাত করার বিষয়টি দেখতে পায়। এছাড়াও ওই পন্যগুলোতে ফুডি কোম্পানীর লেবেলও লাগানো হয় সেখানে বসেই। এরপর বরিশাল নগরী সহ বিভিন্ন স্থানের দোকানে সাপ্লাই দেয়া হয় ওই ঘর থেকে। শুধু ফুডি কোম্পানীর পন্য নয় ওই ঘরে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ কিটক্যাট, ডেইরি মিল্ক, পোলো, ডার্ক ফেন্টাসি বিস্কুট, ইম্পেরিয়াল সাবান, কিন্ডার জয়, কেওড়া জল, ডেক্সে ব্লাক হেয়ার শ্যাম্পু, জনসন সাবান, জনসন বেবি সোপ, নবরত্ন হেয়ার অয়েল, সাভারি চকলেট, পার্ক, আনমল হেয়ার কালার, কোডোমো বেবি সোপ সহ আরও কিছু পন্য হেফাজতে নিয়েছে। এগুলো আসল পন্য কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। এছাড়া এই পন্যগুলো ঢাকার মীরপুরের ফুডি ফুড প্রোডাক্টস এর নামে সাপ্লাই দেয়া হয় বিভিন্ন স্থানে।
ঘরের মধ্যেই প্যাকেটজাত করা কাজে নিয়োজিত মো: শাহিন বলেন, এই বাড়ির মালিক এডভোকেট সোবাহান হাওলাদারের ছেলে পারভেজ ঢাকায় চাকুরী করেন। সেই মালিক এটার। আমি নতুন আসছি, বিস্তারিত জানিনা। আমি সহ আরও ৪জন কাজ করি এখানে। কেরানীগঞ্জ থেকে মালগুলো আনা হয়। সেগুলো এখানে বসে প্যাকেট করতে দেয়া হয় আমাদের।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারি কমিশনার নরেশ চন্দ্র কর্মকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই বাসায় অভিযান চালিয়েছি। এখানে বিভিন্ন কোম্পানীর মোড়কে খাদ্যদ্রব্য রয়েছে। যা আমাদের ভেজাল মনে হচ্ছে এবং আমাদের ধারণা এগুলো অবৈধ। তাছাড়া এসেই এখানে বেকিং পাউডার প্যাকেটজাত করতে দেখেছি। আমরা আরো খুঁটিনাটি বিষয় দেখছি। রাত হয়ে যাওয়া আমরা এই বাসা আটকে দিয়েছি। এখানে পুলিশ সদস্য থাকবে পাহাড়ায়। সকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।