ডেস্করিপোর্ট কুষ্টিয়ায় অভিযোগ প্রাপ্তির ৭ ঘন্টার মধ্যে ক্লুলেস মোটর সাইকেল চুরির রহস্য উদঘাটন সহ চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার ও ৩ চোরকে আটক করেছে মিরপুর থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, রাব্বি(১৯), আলামিন(২১) ও মোঃ হিরক(২০)
সোমবার (৪অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩ টায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম জানান, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার বলিদাপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী সেলিম রেজার স্ত্রী নুপুর খাতুন (৩৬) তার ছেলে ইমনকে ২০১৪ সালে কুষ্টিয়ার পাঁচ রাস্তার মোড় চৌধুরী সুপার মার্কেট স্বস্তি অটো শোরুম থেকে লাল রংয়ের ZONGSHEN ১০০ সিসির একটি মোটর সাইকেল ৮৬ হাজার টাকায় কিনে দেন। গত ১ অক্টোবর দুপুর ২ টার দিকে মিরপুর ধানাধীন সাইফন ব্রীজের উত্তরে ক্যানেলপাড় থেকে মোটর সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পরেও না পাওয়ায় গত ৩ অক্টোবর রাত ১১ঃ ৪৫ ঘটিকায় মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা একটি চুরির এজাহার করলে থানায় মামলাটি রুজু হয়।
পরে এসপি মোঃ খাইরুল আলমের নির্দেশে মিরপুর থানার একটি চৌকশ পুলিশ টিম কুষ্টিয়া জেলার আইসিটি ও মিডিয়া টিমের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোটর সাইকেলটি উদ্ধার ও চোর সনাক্তের জন্য মামলার বাদীর ছেলে মোঃ ইমন হোসেনের বন্ধু মোঃ রাব্বিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মোটর সাইকেল চুরির বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, সে সহ বাদীর ছেলে ইমন(১৭), আলামিন(২১) ও মোঃ হিরক ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে একসাথে চলাফেরা ও নেশা করে থাকে। তাদের নেশার টাকা শেষ হওয়ায় রাব্বি, আলামিন ও হিরক একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করে যে ইমনের মোটর সাইকেল চুরি করতে হবে। রাব্বি ইমনকে নিয়া নেশা করতে থাকবে সেই ফাকে আলামিন ও হিরক মোটর সাইকেল চুরি করে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার পরে রাব্বি ইমনকে নিয়ে আসবে।

পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম জানান, তাদের সেই পূর্বপরিকল্পনা মত ঘটনার দিন গত ১ অক্টোবর দুপুর ১ টার দিকে রাব্বী ইমনকে মিরপুরের সাইফন ব্রীজের ৩০০ মিটার উত্তরে জিকে ক্যানেলের পাড়ে আসতে বললে ইমন সরল মনে তার মোটরসাইকেল নিয়ে জিকে ক্যানেল পাড়ে আসলে ইমনকে মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখতে বলে ইমনকে নিয়ে রাব্বি পাশের বাগানে নেশা করার জন্য যায় এবং নেশাদ্রব্য ক্রয় করার জন্য ইমনের কাছে টাকা চায়। এ সময় ইমন বলে সে নেশা করবেনা আর কোন টাকাও দিতে পারবেনা।
সেই ফাকে আলামিন ও হিরক মোটর সাইকেল চুরি করে নিরাপদে নিয়ে রাব্বিকে আলামিন ফোন করলে রাব্বি আলামিনকে বলে ঠিক আছে বিকালে দেখা হবে; এই বলে রাব্বী মোবাইল রেখে দেয়। পরে রাব্বির স্বীকারোক্তি মতে আলামিন ও হিরককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা রাব্বির মতো একই ভাবে মোটর সাইকেল চুরির বিষয়ে স্বীকার করে এবং মোটর সাইকেল আলামিনের ফুফাতো ভগ্নিপতি মোঃ আমির হোসেনের বাড়ী চারুলিয়া গ্রামে আছে বলে জানায়। পরে আলামিনের দেয়া তথ্য মতে চারুলিয়া গ্রামের আলামিনের বাড়ী থেকে মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম জানান, আটক আসামীদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া, মোঃ আজমল হোসেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিরপুর সার্কেল, মোঃ গোলাম মোস্তফা, অফিসার ইনচার্জ মিরপুর থানা, মোঃ শহীদুজ্জামান, আরওআই কুষ্টিয়া এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।