বুধবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, ভোর ৫:১৯
শিরোনাম :
বরিশাল সিটি নির্বাচনে এনসিপির একক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন শিকদার! বরিশাল আদালত চত্বরের ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে‘সেবা দিবস’পালিত বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে এ বছরই সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর: শিক্ষামন্ত্রী বরিশালে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলের প্যারেন্টিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত বিসিসি নির্বাচনে মাঠে তৎপর এনসিপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন শিকদার! কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার

পটুয়াখালীতে অসুস্থ স্ত্রী ও নাতি নিয়ে বৃদ্ধর মানবেতর জীবন যাপন

দুমকী প্রতিনিধি  পটুয়াখালী সদরের অসহায় অসুস্থ স্ত্রী চান ভানু (৭০) ও নাবালক নাতি (৮) কে নিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল খালেক (৮০) এর মানবেতর জীবন যাপন করছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শহরের পিডিএস মাঠের পশ্চিম পাশে সরকারি জমিতে সুখেই বসবাস করছিলেন পরিবার নিয়ে। কিন্তুু গত দুবছর আগে আয়ের উৎস একমাত্র ছেলে খোকন মারা গেলে অসহায় হয়ে পরে পরিবারটি। সরকারি খাস জমিতে চা বিস্কুট বিক্রি করে কোনমতে দিন চললেও বর্তমানে সেই খাস জমি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ছেলে মারা যাবার পর বর্তমানে আব্দুল খালেক এর পরিবারটি খুব অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছে। থাকার কোন জায়গা না থাকায় নিজের পকেট থেকে বৃদ্ধ দম্পতি দুজনের জন্য আপাতত পাখি আক্তারের বারান্দায় আঠারো শত টাকা দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করছি। যে চায়ের দোকান দিচ্ছে তারা তা দিয়ে তাদের দুজনের সংসার চলার মত না। তাই প্রায় মানুষই তাদের খাদ্য ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে।তিনি আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি এই বৃদ্ধ দম্পতিদের থাকার জন্য একটা ঘর ও ব্যবসা বানিজ্য করার জন্য ক্ষুদ্র ঋন দেয়া হয় তবে তারা মোটামুটি ভাল ভাবে চলতে পারত।

বৃদ্ধ দম্পতি আব্দুল খালেক বলেন, বউ অসুস্থ চিকিৎসা করানোর টাকা নাই আর চিকিৎসা করালে তবে খাবার না খেয়ে থাকতে হবে। ছেলেটা যতদিন বেচে ছিলো ততদিন ভালোই ছিলাম আর মারা যাবার পর এখন কোন রকম খেয়ে না খেয়ে বেচে আছি। মানুষ যদি সাহায্য না করত তবে না খেয়েই মারা যেতাম।

তিনি আরো বলেন, গ্রামের বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের পুকুরজনা গ্রামে হলেও যেটুক জায়গা ছিলো তা অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন সরকার যদি আমাদের থাকার জন্য একটা ঘর দিতো তবে কোন রকম জীবনটা পার করতে পারতাম।

নাবালক বড় নাতি রিয়াজ (০৮) বলেন, বাবা যতদিন বেচে ছিলো ততদিন আমাদের কোন সমস্যা ছিলো না। তবে বাবা মারা যাবার পর আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। এক দাদু আমাদের থাকার জন্য একটা বাসা ভাড়া করে প্রতি মাসে সেই ভাড়া টাকা দেয়। আর দাদুর চায়ের দোকানে ২০০/৩০০ বেচাকিনা হলে কোন রকম তা দিয়ে ভাত আর আলু দিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয় আমাদের। আমাদের থাকার মত কোন জমি বা ঘর নাই সরকার যদি আমাদের একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে তবে খুব ভাল হতো।

এবিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শীলা রানী দাস বলেন, বৃদ্ধ দম্পতি যদি বয়স্ক ভাতা না পেয়ে থাকেন তবে সেটি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো এবং সেই সঙ্গে যদি তারা ক্ষুদ্র ব্যবসা করতে চায় সেক্ষে তাদের লোন পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে।