শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:১৯
শিরোনাম :
মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ফেনীর ইমাম নৈশভোজে ট্রাম্পের খাবারের মেনুতে ছিল গরুর পাঁজরের মাংসসহ বেইজিং হাঁসের রোস্ট রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘাত-রক্তপাত সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩৯টি মার্কিন বিমান ধ্বংস পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি,নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপে ফেলে প্রতারণা, বিএনপি ও যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার ট্রাম্পকে লাল গালিচায় রাজকীয় অভ্যর্থনা দিল চীন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল রাশিয়া দায়িত্বশীল নেতৃত্বে কাউনিয়া থানায় ইতিবাচক পরিবর্তন, ওসি সনজিতের ভুমিকা প্রশংসিত!

বরিশালে মান্তা মৎস্যজীবী নারীদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেইন্ট বাংলাদেশ এর উদ্যোগে মান্তা মৎস্যজীবী নারীদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০ টায় বরিশাল নগরীর সি এন্ড বি রোডস্থ সেইন্ট বাংলাদেশ এর ট্রেনিং সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন, সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফয়সাল জামিল।সভায় সভাপতিত্ব করেন সেইন্ট বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির।সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সেইন্ট বাংলাদেশ এর পরিচালক মোঃ বেলায়েত হোসেন।সভায় পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

এছাড়াও অন্যান্যদের মাঝে আরো বক্তব্য রাখেন, সেইন্ট বাংলাদেশ এর উপ-পরিচালক উপ-পরিচালক,আহসান মুরাদ চৌধুরী,মনিটরিং ম্যানেজার মোঃ মজিবুর রহমান, দৈনিক প্রথম আলোর বরিশাল ব্যুরো চীফ মোঃ জসিম উদ্দিন।

সভায় বক্তারা বলেন, মান্তা হলো বাংলাদেশের একটি জেলে সম্প্রদায়। যারা মূলতঃ নদী এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে নৌকায় বা ভাসমান জীবনযাপন করে। তারা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং তাদের জীবনযাত্রা নদী ও নৌকার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। মান্তা সম্প্রদায় সাধারণত নদী বা উপকূলের কাছাকাছি নৌকা বা ভাসমান আবাসস্থলে বসবাস করে। তাদের জীবনযাত্রা অনেকটা যাযাবর প্রকৃতির, যেখানে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়ে থাকে।এই নদীবাসীদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন মাছ শিকার। মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে সবাই মিলে জাল, বড়শি নিয়ে মাছ ধরে। নারী-পুরুষ সবাই দক্ষতার সঙ্গে এ কাজ করতে পারেন। শিশুরাও শিখে নেয় তাড়াতাড়ি।জোয়ারের ওপর নির্ভর করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তাঁরা নদীতে মাছ ধরতে যান। প্রধানত পোয়া, ইলিশ, পাঙ্গাশ আর ছোট ছোট পোনাজাতীয় মাছ শিকার করেন তাঁরা। উপকূলে বিস্তৃত নানা নদী-খালে শিকার করা সেই মাছ আবার উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে বিক্রি করেন। তবে তাঁরা গভীর নদীতে মাছ শিকারে যান না। উপকূলের কাছাকাছি থেকে মাছ শিকার করেন। নদীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মাছ ধরা শেষে বিকেলে আবার ফিরে আসেন।

এ সময় বক্নতারা আরো বলেন, নদীপাড়ের স্থানীয় বাজারে মাছ বিক্রি করে পাওনাদারদের দেনা পরিশোধ ও খাবারসামগ্রী কেনার পর তাঁদের হাতে তেমন কিছু থাকে না। এ জন্য অর্থ সঞ্চয় বলতে কিছু নেই। মাছ শিকারের পাশাপাশি অনেকেই আজকাল ধান কাটার মৌসুমে কৃষিশ্রমিকের কাজ করে। তবে এ কাজের জন্য তাঁরা দিনের শেষে নৌকায় ফেরা যায়, এমন দূরত্বের চেয়ে দূরে কোথাও যান না। ক্ষুদ্রঋণ আর মহাজনি ঝণের ওপরেও তাদের নির্ভরশীলতা রয়েছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়েছে।যা তাদেরকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছে।

এসময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মৎস অফিসের কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।