বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৪:২৬
শিরোনাম :
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বরিশাল সদর ভূমি অফিস, অসাধুদের অপতৎপরতা! কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না: স্পিকার মাদ্রাসার নির্মাণকাজে ‘অনিয়ম’, প্রকৌশলীর নামে প্রশাসনে অভিযোগ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনাঃ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল শেবাচিমের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সাংবাদিক মাহমুদ হাসানের মায়ের ইন্তেকাল, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের শোক কর্মস্থলে অনুপস্থিত বরিশাল ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধে বিএনপি সরকারের রেকর্ড শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর: পানিসম্পদ মন্ত্রী আদর্শের টানে আঘাতের ক্ষত হাসিমুখে বয়ে বেড়ান বিএনপি কর্মী দেলোয়ার বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি

মাদ্রাসার নির্মাণকাজে ‘অনিয়ম’, প্রকৌশলীর নামে প্রশাসনে অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট ।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবন নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনের ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে, দেয়ালের হাতের সামান্য আচড়েই খসে পড়ছে প্লাস্টার। এছাড়া নিম্নমানের ইট, দরজা, জানালা ও পানির ট্যাংক ব্যবহারের অভিযোগও করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

ভবনটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ১২২ টাকা।

এসব অনিয়মের জন্য বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে দায়ী করে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা নুরুল আমিন কালাম।

অভিযোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের গণস্বাক্ষরও নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

‘ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের মাত্র চার মাস। এর মধ্যেই বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ক্লাসে। এছাড়া কাঠের যে দরজা লাগানো হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। হাত দিয়ে দেয়ালে আচর দিলে খসে পড়ছে প্লাস্টার। ভবনে ৫০০ লিটার পানির ট্যাংকি বসানো হয়েছে, যা পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী।’

নুরুল আমিন কালাম বললেন, ‘শুরু থেকেই নির্মাণকাজে অনিয়ম চলছে। জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি তা আমলে নেননি।’

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গনি হাওলাদার বললেন, ‘ভবনে সব থেকে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ছাদের রড বের হয়ে আসছে, ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। যে কারণে ছাদের খোয়া, বালু উঠে আসছে।’

নির্মাণকাজের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেন আবদুল গনি হাওলাদার। তিনি বলছিলেন, ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির একটা লেভেল থাকে। মাদ্রাসার একতলা ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তার সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে প্রকৌশলী বিপ্লব।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। তিনি বললেন, ‘নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফাইনাল বিল নিয়ে ঠিকাদারের মধ্যে একটু ঝামেলা ছিল। সেটি পাস হয়ে গিয়েছে। কাজ এখনো শেষ হয়নি। ভবনের সমস্যাগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।’

ব‌রিশাল জেলা প‌রিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ স‌চিব) ইম‌তিয়াজ মাহামুদ জু‌য়ে‌লের ব্যবহৃত নম্বরে একা‌ধিকবার কল করা হলেও সে‌টি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জেলা প‌রিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেছেন, ‘অ‌ভিযো‌গের কাগজ‌টি হাতে পাইনি। তবে বিষয়‌টি আ‌মি শুনে‌ছি আমার সোর্সের মাধ্যমে। তদন্ত করা হবে এবং দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ক‌ঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’