বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৪:২৯
শিরোনাম :
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বরিশাল সদর ভূমি অফিস, অসাধুদের অপতৎপরতা! কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না: স্পিকার মাদ্রাসার নির্মাণকাজে ‘অনিয়ম’, প্রকৌশলীর নামে প্রশাসনে অভিযোগ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনাঃ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল শেবাচিমের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সাংবাদিক মাহমুদ হাসানের মায়ের ইন্তেকাল, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের শোক কর্মস্থলে অনুপস্থিত বরিশাল ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধে বিএনপি সরকারের রেকর্ড শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর: পানিসম্পদ মন্ত্রী আদর্শের টানে আঘাতের ক্ষত হাসিমুখে বয়ে বেড়ান বিএনপি কর্মী দেলোয়ার বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি

অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বরিশাল সদর ভূমি অফিস, অসাধুদের অপতৎপরতা!

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশাল সদর ভুমি অফিস। ঘুষ-দুর্নীতি আর অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুর একটি দপ্তরে রুপান্তরিত ছিল। এতে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি ছিল যেন পদে পদে। যিনি ছিলেন এই দপ্তরের রক্ষক, তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভক্ষকের ভুমিকায়। দপ্তরটি এই ক্রান্তিলগ্নে ঝর্ঝড়িত ছিল দীর্ঘ বছর। আর এই অন্ধকারের সমাপ্তি ঘটে নয়া রক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে।

তিনি হলেন কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) আজহারুল ইসলাম। অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফাটাকেস্ট হিসেবে দপ্তরের হাল ধরেন। অদ্যবধি দপ্তরটি সেবাপ্রত্যাশীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেবায় ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।

তবে দুর্নীতি পিছু ছাড়লেও ছাড়েনি দপ্তরটির বিরুদ্ধে অসাধু মহলের অপতৎপরতা। যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি বরিশাল সদর ভূমি অফিস ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে উল্লেখ করা কয়েকটি অভিযোগ ও ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করে বাস্তব তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে সদর ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কুতুবউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুতুবউদ্দিন গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশনে কর্মরত রয়েছেন।

ফলে তাকে বর্তমান সদর ভূমি অফিসের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই বিষয়ে চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের মজিবর হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির ১৫০ ধারার মামলার কথা উল্লেখ করে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা নিষ্পত্তির অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে মজিবর হাওলাদার নামে কোনো ব্যক্তির ১৫০ ধারার মামলা দাখিল কিংবা রায় হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। কাশিপুর ইউনিয়নের মান্নান খলিফা নামে এক ব্যক্তির দুটি জমির নামজারির জন্য ২২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে কাশিপুর ইউনিয়নে মান্নান খলিফা নামে কোনো ব্যক্তির নামজারি আবেদনের তথ্য নেই। অন্যদিকে প্রতিবেদনে চরমোনাই ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্চা দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চরকোনাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মিজানুর রহমান নামে কোনো কর্মকর্তা বর্তমানে কর্মরত নেই। এছাড়া জমির পর্চা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হয় বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া সদর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী আতিউর রহমান খানের নামও ঘুষ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আতিউর রহমান গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে বদলি হয়ে বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। ফলে বর্তমান সদর ভূমি অফিসের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করে অভিযোগ করার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এদিকে বরিশাল সদর ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে আজহারুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন।

সাধারণ মানুষ যাতে দালাল বা কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেনের আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভূমি সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। দালালনির্ভরতা কমানো, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে অফিসের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভূমি অফিসের সেবাকে ঘুষমুক্ত ও জনবান্ধব করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগের তুলনায় ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে শতভাগ দালালমুক্ত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।