ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশালের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেনকে ঘিরে ফের ষড়যন্ত্র ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, নিরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম তদারকি এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি অনুসরণ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা।
জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। আর্থিক কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সমন্বয়ে অভিজ্ঞ নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির তদারকিতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া মাদ্রাসার আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এদিকে, মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেনকে হয়রানি করতে সুফিয়ান নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
শিক্ষকরা আরও জানান, মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে মাদ্রাসার সার্বিক কার্যক্রম স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মনীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখতে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু যাচাই প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পরবর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য, মাদ্রাসার জেনারেল শিক্ষক নজরুল ইসলামকে ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিদপ্তরের প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী জেনারেল বিভাগের কোনো শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বরিশালের জেলা প্রশাসক বিধিবিধান অনুসরণ করে নজরুল ইসলামের পরিবর্তে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠন নিয়েও বিতর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিধিবিধান অনুসরণ না করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, আগের কমিটির বিভিন্ন পদে একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি ছিলেন এবং মাদ্রাসায় আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল। এ পরিস্থিতিতে নতুন কমিটি গঠনের জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে, মাদ্রাসায় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও নাকচ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে না।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা মনে করেন, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন।