বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং, সকাল ৯:০৬
শিরোনাম :
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সড়কের ইট বন্ধ হচ্ছে সংকটে থাকা ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারী পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা বরিশালে ৩ দিন ব্যাপী সাংগঠনিক উন্নয়ন ও ব্যাবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু ইসরায়েলের‘রামাত ডেভিড’বিমানঘাঁটিতে ইরানের ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ হামলা অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সের বিশেষ বিধান বাতিলের দাবি বাকেরগঞ্জের চরামদ্দিতে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ: কার্যালয় মোটরসাইকেলে আগুন বাকেরগঞ্জের চরাদীতে ৪ শতাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসাপত্র প্রদান লেনদেন বন্ধ রাখলো গ্রাহকরা, বরিশাল ইসলামী ব্যাংকে এক ঘন্টা কলম বিরতি

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পাশে পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায়!

ডেক্সরিপোর্ট  খুলনার কয়রায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পাশে পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। ২০০৯ সালের এ দিন আইলার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয় উপকূলীয় অঞ্চল। আইলায় কয়রার বাঁধ ভেঙে যায়। কিন্তু ১১ বছরেও তা নির্মিত হয়নি।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকা। আম্পানের তাণ্ডবে কয়রায় ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২১ জায়গায় ৪০ কিলোমিটার অধিক বাঁধ ভেঙে গেছে।

ফলে সোমবার (২৫ মে) ঈদুল ফিতরের দিন সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই আদায় করেছেন পবিত্র ঈদের নামাজ। সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার দুই নম্বর কয়রা নদী ভাঙন পাড়ে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের জামাত আদায়।ঈদের নামাজে ইমামতি করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আ খ ম তমিজ উদ্দিন।

নামাজ শুরুর আগে কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে তিনি লণ্ডভণ্ড কয়রার দুর্বিষহ অবস্থা তুলে ধরেন এবং মজবুত বাঁধ নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ বাঁধার কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান।হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের জামাত আদায়।এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার অন্যরকম এক ঈদ উদযাপন করছি আমরা। স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণে এসে জোয়ারের পানি যখন হাঁটুপানি পর্যন্ত পৌঁছায় তখই শুরু হয় ঈদের নামাজ। প্রায় ছয় হাজার মানুষ নামাজে অংশ নেন। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবার জন্য ঈদের সেমাইয়ের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া দুপুরে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কয়রা পাউবোর ১৩/১৪-১ ও ১৩/১৪-২ নম্বর পোল্ডারের (চারদিকে নদীবেষ্টিত দ্বীপ অঞ্চল) অন্তর্ভুক্ত। এর পূর্ব পাশে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে কপোতাক্ষ ও উত্তর পাশে রয়েছে কয়রা নদী। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে খুলনার ৯টি উপজেলার ৮৩ হাজার ৫৬০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিতে পড়েছেন সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে কয়রা উপজেলায়, সেখানে ৪০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ৮০ শতাংশ এলাকাই প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অসহায় হয়ে পড়েছেন প্রায় সাত লাখ মানুষ।

আম্পানের আঘাতে কয়রার চারটি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২১টি পয়েন্টে নদী ভাঙনের কারণে এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঝড় ও বন্যার কারণে কয়রা উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের ছোট-বড় পাঁচ হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে।

এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে দ্বিতীয়বারের মতো তছনছ হয় বাঁধটি। আইলার আঘাতের সেই দিবসেই এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে। ২ নম্বর কয়রা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পাশের পানির মধ্যে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসী ঈদের নামাজ আদায় করেন।