আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: মোটরসাইকেলের কিনে দেয়ার বায়না পূরন না করায় নির্যাতনের পর গৃহবধূ নুসরাত জাহান ইভার মুখে বিষ ঢেলে হত্যার ঘটনায় তার পিতা গাজী আক্তার হোসেন অভিযোগ করলেও মামলা নেয়নি ঝালকাঠির নলছিটি থানার ওসি। আর নিউমোনিয়া রোগী হিসাবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে দাবী করে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে মামলা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে নলছিটি থানা পুলিশের ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন।
অন্যদিকে সোমবার দুপুরে গৃহবধূ ইভাকে বিষ দিয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে ঝালকাঠিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন গৃহবধূর পিতা গাজী আকতার হোসেন তার ও তার পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের পিতা মো. আক্তার হোসেন গাজী বলেন, তার নিহত মেয়ে নুসরাত জাহান ইভার (২২) সাথে প্রায় ৫বছর পূর্বে একই এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিবের ছেলে তারিকুল হাওলাদার লিংকনের (২৮) সঙ্গে নুসরাতের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্রধরে গত ৪ বছর আগে পরিবারের অমতে তারা দুজনে বিয়ে করলে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেন। কিছুদিন পরে যৌতুকের জন্য নুসরাতের ওপর তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
হতভাগ্য পিতা জানায়, মেয়ের সুখের কথা ভেবে গত ৪ বছরে বিভিন্ন সময় ৪ লাখ টাকার মতো যৌতুক দিলেও সর্বশেষ একটি মোটরসাইকেলের বায়না ধরে স্বামী লিংকন। স্ত্রী নুসরাত তার স্বামীর এদাবী পিতার পরিবারকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এ অবস্থায় গত ৩০ মে দুপুরে ঘরের মধ্যে আটকে নুসরাতের ওপর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন চরম নির্যাতন চালানোর এক পর্যায় নুসরাত অজ্ঞান হয়ে যায়। এ সময় স্বামী ও তার পরিবার মুখের মধ্যে কীটনাশক ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ করে মৃত গৃহবধূর পিতা।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূ ইভা চরম অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন চিকিৎসা কোন ডাক্তার বা হাসপাতালে না নিয়ে ঘরে ফেলে রাখলে খবর পেয়ে পরদিন তার পিতা আক্তার হোসেন গাজী এসে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। সেখানে ১৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। তবে গৃহবধূ নুসরাত জাহান ইভা চিকিৎসাধীন থাকার সময়ে তার উপর চালানো নির্যাতন সম্পর্কে বিস্তারিত তার পরিবারের সবাইকে জানিয়ে ছিলো বলে।
ইভার বাবা গাজী আক্তার হোসেন বলেন, ইভার মৃত্যুর পর স্বামী লিংকনসহ তার স্বজনদের আসামি করে নলছিটি থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলা নেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন ওসি। এমন কি পুলিশের কাছ থেকেই তারা নুসরাতকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি সময় কাগজপত্রে মিথ্যে তথ্য দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে স্বজনরা জানায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নলছিটি থানা পুলিশের ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গৃহবধূ ইভা বিষপানের তিনদিন পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে নিউমোনিয়া রোগী হিসেবে চিকিৎসক তালিকাভুক্ত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মরদেহের ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসতে ১০-১২ দিন সময় লাগবে। রিপোর্ট এলে তখন মামলা নেয়া হবে।