আব্দুল্লাহ আল হাসিব, বরিশাল বরিশালের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ওইসব এলাকার মানুষ। ফসলি জমি, পুকুর তলিয়ে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও রাস্তাঘাট ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে সবধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বরিশাল নদী বন্দরে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

এছাড়া বৈরী আবহাওয়াও বিরাজ করছে। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচলের ক্ষেত্রে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে সকালে প্রচন্ড ঢেউয়ের কারনে ঢাকা থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটে আসা গ্রিন লাইনের যাত্রীবাহী ক্যাটারমান জাহাজের সামনের গ্লাস ভেঙে যায়। তবে যাত্রীদের নিরাপদেই গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ আগস্ট দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সর্বশেষ হিসেব বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ৩০ সেন্টিমিটার, হিজলার ধর্মগঞ্জ নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ১৮ সেন্টিমিটার, মির্জাগঞ্জের বুড়িশ্বর বা পায়রা নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ৬৪ সেন্টিমিটার, আমতলীর বুড়িশ্বর বা পায়রা নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ৩৭ সেন্টিমিটার, পাথরঘাটার বিষখালী নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ৫০ সেন্টিমিটার, বরগুনার বিষখালী নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ৫৭ সেন্টিমিটার ও ভোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন তেতুলিয়া নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলের ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।