বৃহস্পতিবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং, রাত ১:৩৬
শিরোনাম :
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্নাতক পর্যন্ত নারীশিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর বন্ধ বিটিএমএ’র কমিটি গঠন :সভাপতি হুমায়ুন,সম্পাদক শাহিন, অর্থ সম্পাদক: মামুন বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মামুন-অর-রশিদ : সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক নিবেদিত যাত্রা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করায় ৪ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আটক বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ এখনো সক্রিয় বরিশালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ

প্রাণ,মিল্ক ভিটা,আড়ং সহ ১১টি কোম্পানির দুধে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে

ডেক্সরিপোর্ট: বাজারে বিক্রি হওয়া খোলা দুধের নমুনায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং প্রাণসহ ১১টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সিসার উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ, পরমাণু শক্তি কমিশন ও আইসিডিডিআর,বির ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

সেই পরীক্ষায় বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টির পাস্তুরিত দুধে সিসা পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো হল- প্রাণ মিল্ক, মিল্ক ভিটা, ডেইরি ফ্রেশ, ইগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং ডেইরি, আইরান, পিউরা, সেইফ মিল্ক।

কোনো খামারি বা কেউ প্রেসক্রিপশন ছাড়া গবাদিপশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতেও পারবে না। আদেশের পাশাপাশি একটি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দুধের দূষণ পরীক্ষা ও গবেষণায় বিএসটিআই নিবন্ধিত দুধ কোম্পানিগুলোকে একটি তহবিল গঠন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা-ও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই এবং দুধ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানিতে আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, দুধ নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে কি না, কোনো রাজনীতি থাকলে আমাদের বলুন। দুধ রাজনীতির বিষয় নয়, জনস্বার্থের বিষয়।

আদালত আরও বলেন, কেউ বলছেন দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। আবার কেউ বলছেন ক্ষতিকর উপাদান নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দুধ পরীক্ষার গবেষণার ফল প্রকাশের পর একজন সেক্রেটারি তাকে নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু কেন? দুধ নিয়ে কি কোনো রাজনীতি হচ্ছে? তাহলে আমাদের বলুন।

এ আইনজীবী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছেন। বিএসটিআই ৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছে। আর আমরা ৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছি। তখন আদালত বলেন, এসব প্যারামিটারের কথা বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখাবেন না। দুধে এরকম ক্ষতিকর উপাদানের বিষয় অন্য দেশে হলে জরিমানা করতে করতে শেষ করে ফেলত।

আইনজীবী বলেন, বিএসটিআই’র অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টি পাস্তুরিত দুধে সিসা ও ক্যাডমিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আদালত বলেন, সিসা ও ক্যাডমিয়ামযুক্ত দুধ বাজারে থাকা কি সমীচীন? দেশের জন্য ভাবুন, দেশের মানুষের জন্য ভাবুন, এত টাকা বেতন পান, ঘুষ খেতে হবে কেন? ঢিলেঢালা ভাব, এভাবে দেশ চলতে পারে না, ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।

আদেশের পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদ বলেন, বিএসটিআই ২০০২ সালে পাস্তুরিত দুধের যে মান নির্ধারণ করেছিল, তার ভিত্তিতেই বাজারে থাকা দুধের নমুনা পরীক্ষা করে এই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্টের উপস্থিতি সেখানে পরীক্ষা করা হয়নি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, আজ ১১টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সিসার উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আদালত এ প্রতিবেদন দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে আদেশ দেন। রেজিস্টার্ড পশুচিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া গাভিকে অ্যান্টিবায়োটিক না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধ, তরল খোলা দুধে সিসার উপস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনকে (বিএসটিআই) ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গোখাদ্য, দুধ, দই ও বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ নিয়ে সম্প্রতি একটি জরিপ চালায় জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগার (এনএফএসএল)। তাতে দুধে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়া যায়।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর দেখে ১১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

সেই আদেশে বলা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে জরিপ চালিয়ে বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটিকে হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।

এরপর ২৩ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আদালতকে বলেন, বিএসটিআই যেসব প্রতিষ্ঠানকে পাস্তুরিত দুধ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, কেবল তাদের মান ঠিক থাকছে কি না, তা দেখভাল করার দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের। আদালত তখন আদেশ দেন, বিএসটিআইয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কতগুলো কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ ঢাকার বাজারে আছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে তার তালিকা দিতে হবে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।