কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে গঙ্গাধর, দুধকুমর, ব্রহ্মপুত্র ও সংকোষ নদের পানি কমতে শুরু করলেও টানা আটদিন ধরে পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছে। সব পরিবার ত্রাণ পাবে। কেউ বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান।
বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের খোজ নিতে প্রতিনিয়ত বন্যার্ত এলাকায় যাচ্ছেন ও ত্রাণ বিতরণ করছেন নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আল ইমরান ও কুড়িগ্রাম ১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর।
গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পানি কমতে শুরু করেছে। এখনো পানিবন্দি ১১ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৪টি ওয়ার্ডের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বাড়ছে তাদের দুর্ভোগ। বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়ায় তারা গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ফ্লাড সেন্টার অথবা জেগে থাকা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্রে। পথ-ঘাট ডুবে যাওয়ায় কলাগাছের ভেলায় চলাফেরা করছে তারা।
জানা যায়, নাগেশ্বরী পৌরসভাসহ ১৪ ইউনিয়ন নদী বেষ্টিত দুধকুমর, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর ও শংকোস বিধৌত নারায়নপুর ইউনিয়নের বালারহাট, ঝাউকুটি, কন্যামতি, আদর্শগ্রাম, মাঝিয়ালী, বংশিরচর, কচাকাটা ইউনিয়নের ধনিরামপুর, মধ্যে ধনিরামপুর, শৈলমারী, জালিরচর, কাইয়ের চর, টঙ্কারচর, সাতানা, বড় ছড়ারপার, চড়াই গ্রাম, নওদাপাড়া, ভোডেরহাইল্যা, ইন্দ্রগড়, কাটাজেলাস, কেদার ইউনিয়নের চর বিষ্ণুপুর, টাপুর চর, পুটিমারী, নুনখাওয়া ইউনিয়নের সারিসুরি, কাপনা, বোয়ালমারী, চরপাটতলা, চরকাপনা, মাঝেরচর, কাটগিরী, ফকিরগঞ্জ, কারিকাপুর, পাটতলা গুচ্ছগ্রাম, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ফান্দিরভিটা, সাহেবগঞ্জ, ধনীরপাড়, পুর্ব কুমড়িয়ারপাড়, নামারচর, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের নয়ারচর, চরবেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চরলুছনি ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম, পাঁচমাতা, বলভেরখাস ইউনিয়নের টাপুরচর, ফান্দিরচর, নামারচরসহ শতাধিক অঞ্চল পানিবন্দী। দুর্ভোগে পড়েছে এ গ্রামগুলোর পানিবন্দী মানুষগুলো।
মৎস্য ও কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ৬শত পুকুরের মাছ। সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে ৯০০ হেক্টর আউশ ধান ক্ষেত, ৩০০ হেক্টর রোপা আমন বীজ তলা, ২৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেত, আংশিক নিমজ্জিত ১৫০০ হেক্টর জমির পাটক্ষেত। ইতোমধ্যে পানিবন্দি হওয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
নগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা সিরাজুদ্দৌলা জানান, সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা ও বানভাসিদের খবর নেওয়া হচ্ছে। বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে সরকারি বরাদ্দের ও ১০৫ মে. টন চাল ও ৪ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান বলেন, বন্যার্তদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি এবং বন্যার্তদের পাশে থাকা- পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহŸান জানিয়েছেন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, বন্যা পরিস্থিতির খবর জানতে বন্যা আক্রান্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছে।