ডেস্ক রিপোর্ট কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় এক নারীকে হত্যা করে লাশ তামাক ক্ষেতে ফেলে রাখার ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলমের নির্দেশে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘটন করে মূল আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার(১৫ মার্চ) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম।
তিনি আরও জানান,গত ১৩ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার নওদাপাড়া(গাঙ্গপাড়া) গ্রামের জনৈক মোঃ শফিকুল ইসলাম(৩৮) এর স্ত্রী রঙ্গিলা খাতুন(৩৬) ছাগল চড়ানো ও ঘাস কাটার জন্য তাদের বাড়ীর পূর্ব পার্শ্বে নওদাপাড়া গাঙ্গপাড়ার মাঠে গিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ী ফিরে আসে এবং পুনরায় আরো ঘাস কাটার জন্য উক্ত মাঠে যায়।
ঐ দিন সন্ধ্যায় একই এলাকার জনৈক কেছমত আলী(৫২) মোবাইল ফোনে শফিকুল ইসলামকে জানায় যে, তাহার স্ত্রী এখন পর্যন্ত বাড়ী ফিরে আসে নাই এবং তাহাকে উক্ত মাঠসহ আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। উক্ত সংবাদ পেয়ে বাদী তার কর্মস্থল থেকে সন্ধ্যা অনুমান ৭ টার দিকে বাড়ীতে এসে মিরপুর থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। পরে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলমের নির্দেশে মিরপুর থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মিলে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পরের দিন ১৪ মার্চ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মিরপুর থানাধীন বীজনগর গ্রামস্থ জনৈক মোঃ মনিরুল ইসলাম এর নওদাপাড়া গাঙ্গপাড়া মাঠের তামাক ক্ষেতের মধ্যে ভিকটিম রঙ্গিলা খাতুন(৩৬) এর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষনিক মিরপুর থানা পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মৃতদেহ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরে এ বিষয়ে ভিকটিমের স্বামী-শফিকুল ইসলাম(৩৮) বাদী হয়ে মিরপুর থানায় অভিযোগ করিলে মিরপুর থানায় একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করার নির্দেশ দিলে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে একটি চৌকশ অভিযানিক দল ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিনের জন্য ঘটনায় জড়িত আসামী সনাক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সহিত জড়িত মূল আসামী মোঃ শাহাবুল ইসলাম(২৬) কে ১৫ মার্চ ভোর রাত ৪ টার দিকে আটক করে এবং আসামীর স্বীকারোক্তিমতে হত্যায় ব্যাবহৃত ২৩ ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করে।
এ দিকে হত্যা মামলার আসামী শাহাবুল ইসলাম স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়ে জানায় ভিকটিম রঙ্গিলা খাতুনকে একা পেয়ে কু প্রস্তাব দেয় এতে রঙ্গিলা বেগম রাজী না হলে নিজের ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া দিয়ে ভিকটিম রঙ্গিলা খাতুন এর মাথাসহ সমস্ত শরীরে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে তার লাশ তামাক ক্ষেতে ফেলে রাখে।
পুলিশ সুপার খাইরুল আলম আরও জানান,আটক আসামী শাহাবুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।