বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ১:২৪
শিরোনাম :
বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

চরফ্যাসনে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়া এনজিও কর্মীর সন্ধান ১১ দিনেও মেলেনি

ভোলা প্রতিনিধি:ভোলার চরফ্যাসনে নিখোঁজ এনজিও কর্মী মো. হেলাল উদ্দিনের সন্ধান ১১ দিনেও মেলেনি। গত ২৫ জুলাই কর্মস্থল দুলারহাট থানার চর মোতাহার থেকে তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন ।

চরফ্যাসন থানার জিন্নাগড় গ্রামের কাঞ্চন মাঝির ছেলে হেলাল উদ্দিন পরিবার উন্নয়ন সংস্থা ( এফডিএ)’র চর মোতাহার শাখার মাঠ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হেলাল উদ্দিন নিখোঁজের ঘটনায় গত ৩০ জুলাই দুলারহাট ও চরফ্যাসন থানায় পৃথক দু’টি সাধারন ডায়রি করা হয়েছে।

হেলাল উদ্দিন নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার উন্নয়ন সংস্থা’র সহযোগি সমন্বয়কারী মো. হারুন গত ৩০ জুলাই দুলারহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। ওই ডায়েরীতে দাবী করা হয়, ২৫ জুলাই মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে (২৬ জুলাই শুক্রবার থাকায়) ২৭ জুলাই একদিনের ছুটিতে যান হেলাল উদ্দিন। ছুটি হতে ওইদিনই (২৭ জুলাই) বিকেলে অফিসে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি যোগদান করেননি।

যোগদান না করায় শাখা ব্যবস্থাপক আবু সাঈদ ফোনে যোগাযোগ করলে মায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন এবং পরদিন (২৮ জুলাই) বিকেলে অফিসে যোগদানের কথা জানান। তারপর থেকে হেলাল উদ্দিনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় । হেলাল উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের অর্থ তছরুপ করার আশংকার কথাও বলা হয়েছে এই ডায়রিতে।

অপরদিকে একই দিন (৩০ জুলাই) নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের বাবা মো. কাঞ্চন মাঝি চরফ্যাসন থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেছেন। (যার নং ১১১৩) । সাধারন ডায়রিতে তিনি দাবী করেন, হেলাল উদ্দিন অফিস থেকে বাড়ি আসার কথা বলিয়া ছুটি নিলেও সে বাড়িতে আসেনি। অনেক খোঁজা খুজি করিয়াও তার সন্ধান মেলেনি। অফিস থেকে বাড়ি আসার পথে অজ্ঞাত যেকোন স্থান থেকে সে নিখোঁজ হয়েছে বলে জিডিতে আশংকা করা হয়েছে।

নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী তানিয়া বেগম জানান, ২৫ জুলাই বৃহষ্পতিবার দুপুরে দেড়টার দিকে স্বামীর সাথে তার শেষ কথা হয়। স্বামী শুক্রবার বাড়ি আসবে বলে তাকে জানিয়েছিল। শুক্রবার স্বামী হেলাল উদ্দিন বাড়িতে ফিরেননি এবং তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। স্বামীর ফোন বন্ধ পাওয়ায় তিনি (তানিয়া) শাখা ম্যানেজার আবু সাঈদকে ফোন দিয়ে স্বামী হেলাল উদ্দিনের অবস্থান জানতে চান ।

আবু সাঈদ তাকে জানান, হেলাল উদ্দিন অফিসে আছেন এবং ফোন বন্ধ করে ক্রিকেট খেলা দেখছেন। তানিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ম্যানেজার আবু সাঈদের সেদিনের বক্তব্য আর ডায়রির বক্তব্যের মধ্যে বিশাল দূরত্ব থাকায় স্বামীর জীবন নিয়ে তিনি শংস্কা মধ্যে রয়েছেন। তানিয়া বেগম যেকোন মূল্যে স্বামী হেলাল উদ্দিনকে জীবিত অবস্থায় ফেরত পেতে চান।

শাখা ম্যানেজার আবু সাঈদ জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি হেলালের স্ত্রীর তানিয়ার মনগড়া কথা । তার সাথে আমার এমন কোন কথা হয়নি। হেলালের স্ত্রী তানিয়ার ফোনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন ।

পরিবার উন্নয়ন সংস্থা’র প্রধান হিসাব রক্ষক জাহিরুল হক নান্টু জানান, নিখোঁজ হেলাল এনজিওর প্রায় ১৬ লাখ টাকা আত্মসাদ করে পালিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ প্রসংগে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, হেলাল উদ্দিনের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারন ডায়রি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দুলার হাট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মো. মিজানুর রহমান জানান, হেলাল উদ্দিনের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারন ডায়রি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।