বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ২:১৭
শিরোনাম :
বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

মাওয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ, দূর্ভোগে যাত্রীরা

মিজানুর রহমান:প্রতিকুল আবহাওয়ায় নদী উত্তাল ও বাতাসের কারনে মাওয়া নৌরুটে  ফেরি চলাচল বন্ধ । ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের দূর্ভোগ ।  শত শত যাত্রীকে মাওয়া ঘাটে যানজটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে । এ সময় মাওয়া ঘাটে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।

এ অবস্থায় ঘাট এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লেগেছে। যাত্রী চাপ সামাল দিতে পরিবহনের স্থলে যাত্রী পারাপার করছে ফেরিগুলো। ফলে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

বুধবার সকাল থেকে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দুপুর ১২টা থেকে আবহাওয়া আরও খারাপ হলে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বৈরী আবহাওয়ায় শিমুুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথের পদ্মা নদী উত্তাল হয়ে উঠলে নৌযান পারাপার বিলম্ব হচ্ছিল। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ বেড়ে গেলে রাত ১২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘাট এলাকায় যাত্রী চাপ বাড়তে থাকলে যাত্রী পারাপারের জন্য ফেরি চালু করা হয়।

এদিকে, লৌহজং টার্নিংয়ের বিকল্প চ্যানেলটি সরু হওয়ার কারণে যাত্রী পারাপারে দীর্ঘসময় লাগছিল। নদীর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আবারও সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এ কারনে ঘাট ও ফেরিগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোড়ে পড়েন। অচল অবস্থার কারণে আগেভাগে বাড়িতে রওনা দেয়া দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।

ফেরিঘাট সূত্র জানায়, উভয় ঘাটে সহস্রাধিক গরুর ট্রাকসহ যানবাহনের দীর্ঘ সারি রয়েছে। আবহাওয়ার কারণে ফেরি বন্ধ রাখলেও ঘাট এলাকায় যাত্রীদের অনুরোধে কিছু ফেরি যাত্রী পারাপার করছে। ঢাকামুখী অসংখ্য গরুবোঝাই ট্রাক আটকে পড়েছে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে। দীর্ঘসময় ঘাটে আটকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে কোরবানির পশুগুলো। অসুস্থ হয়ে কাউসার মিয়ার নামে এক ব্যবসায়ীর একটি গরু মারা যায়। সেই সঙ্গে গরু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মাওয়া ঘাটের যাত্রী সাব্বির বলেন, ‘ আমি সকাল থেকে মাওয়া ঘাটে এসে বসে আছি, একটা ফেরিও চলাচল করে নি । তবুও বাস চালকেরা এমনিতেই যাত্রীদের মাওয়া ঘাটে নিয়ে আসছে , এতে যাত্রীর আরও দুর্ভোগে পরতেছে। মাওয়া নৌরুটে  সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার কারনে অনেক যাত্রীরা পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসতেছে ’।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীতে প্রবল স্রোত। এ অবস্থায় নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে কোনো লঞ্চ ও স্পিডবোট ছাড়া হয়নি। সকালে দুটি ফেরি ছাড়া হলেও আবহাওয়া বেশি খারাপ হলে দুপুরে ফেরিসহ সব নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ করা হয়। তবে ঘাটে যাত্রী চাপ সামাল দিতে সীমিত আকারে যাত্রীদের অনুরোধে ফেরিতে করে অল্প অল্প যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবল বাতাস থাকায় মাঝ নদীতে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় নৌযান চলাচল করলে যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গরুবোঝাই ট্রাক ও যাত্রী পারাপার করা হবে।