ডেস্করিপোর্ট বরিশালে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সেইন্ট বাংলাদেশের আয়োজনে দুদিন ব্যাপী ছাগল পালন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের কারিগরি সহযোগিতায় সেইন্ট-বাংলাদেশ-এর আয়োজনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন-এর রসুলপুর এ ৮৭ নং চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলে গত শনি ও রবিবার(২৮ ও ২৯ আগস্ট) দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ছাগল পালন বিষয়ক দুই দিন ব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড (এওত) -এর কারিগরি সহায়তায় এবং ঊট ও ইগত আর্থিক সহায়তায় ‘‘ আরবান ম্যানেজমেন্ট অব ইন্টারনাল মাইগ্রেশন ডিউ টু ক্লাইমেট চেঞ্জ (টগওগঈঈ ওও)/ আরবান ম্যানেজমেন্ট অব মাইগ্রেশন এ্যান্ড লাইভলিহুড (টগগখ) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মিয়া মজিবর রহমান, ম্যানেজার মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন সেইন্ট-বাংলাদেশ, বিশেষ অথিতি ছিলেন মো: বেলায়েত হোসেন প্রোগ্রাম সমন্বয়ক সেইন্ট-বাংলাদেশ,শিশির কুমার বৈরাগী, প্রকল্প-ব্যবস্থাপক, বিএলপি কার্যক্রম, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম, মিনারা বেগম সভাপতি সি ডি সি এবং উক্ত অনুষ্ঠানে জিআইজেড প্রতিনিধি স›দ্বীপ মন্ডল ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মোঃ মাজহারুল ইসলাম, ফিল্ড অর্গানাইজার, ইউএমআইএমসিসি প্রকল্প, সেইন্ট-বাংলাদেশ, বরিশাল। প্রকল্পটি বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২টি দরিদ্র এলাকা রসুলপুর ও মোহম্মদপুরে ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা আগামী জুলাই ২০২২ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ২টি দরিদ্র আবাসন এলাকার ৫৯ টি পরিবারকে ২টি করে বকরি ছাগল ও ছাগল পালনের জন্য ছাগলের মাচা, খাদ্যসামগ্রী এবং ঔষধ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকারভোগী বৃদ্ধি, সম্পদ বৃদ্ধি, কর্ম এলাকা বৃদ্ধি, দারিদ্র বিমোচনে একে অন্যের সহায়ক হওয়া, ছাগলের খামারের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ এবং ব্যবসা ভিত্তিক খামার পরিচালনা করার লক্ষ্যে প্রথম উপকারভোগী তার ছাগলের প্রথম বকরি বাচ্চাটি অন্য একটি দরিদ্র পরিবারকে হস্তান্তরের মাধ্যমে এ যাবত নতুন ২৬টি পরিবারকে বকরির বাচ্চা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৮৫টি পরিবার এবং এই পদ্ধতিতে ছাগল বিতরণ চলমান থাকবে জানা গিয়েছে। এছাড়াও উপকারভোগিগণ এই কর্মশালা থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রকল্প কার্যক্রমটি মূলত: যে সকল জনগোষ্ঠি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উদ্বাস্তু হিসেবে শহরের বস্তি/নিম্ন আয়ের এলাকায় অবস্থান করছে তাদের জীবন জীবিকা উন্নয়নে ও ইতিবাচক অবস্থান পরিবর্তনের জন্য এওত এর সহায়তায় সেইন্ট-বাংলাদেশ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।