উজ্জ্বল রায়,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলের লক্ষীপাশা মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনে তার অপসারণসহ বিচারের দাবীতে সকাল ১১টায় উপজেলা কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সরদার আব্দুল হাই,দপ্তর সম্পাদক শরীফুল ইসলাম সরু, পৌর কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ভ‚ইয়া,সৈয়দ শাহজাহান সিরাজ বিদ্যুত, অভিভাবক মো:বাবন শেখ, বিএম লিয়াকত হোসেন, গাজী লিয়াকাত হাসান,সোলায়মান মোল্যা পান্নু, ইউসুফ মোল্যা ও এসএম সাহেদ মাহমুদ প্রমুখ। উল্লেখ্য গত রাতে অধ্যক্ষের অপসারণ ও দুর্নীতির খন্ড চিত্রের ফিরিস্তি তুলে ধরে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলাকাবাসীর ব্যানারে ব্যাপক পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
খোজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম পূর্বে সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন যশোর জেলার তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে। সেখানে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনে চাকুরীচ্যুত হয়। পরে তৎকালিন জোট সরকারের আমলে অর্থের জোরে নিয়োগ বিধি লংঘন করে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান লক্ষীপাশা অদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজে।
যোগদানের পর ২০১২ সালে ডিগ্রি অর্জনের অজুহাতে প্রায় দু’বছর কলেজে অনুপস্থিত থেকে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। বাড়িতে বসে ডিগ্রি অর্জন করলেও কলেজের বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দু’কোটি টাকার বাণীজ্য করেন তিনি। সমপ্রতি একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ফি ১ হাজার টাকার স্থলে ২হাজার ৫’শ, এইচ এসসি ও বিএ ফর্ম পূরণে প্রায় দশলক্ষ টাকা অতিরিক্ত আদায়। ২০১৭,১৮,১৯ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত ভ‚য়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।
এ ছাড়াও কলেজ তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা এবং সরকারী তহবিল হইতে ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতসহ চিত্র-বিচিত্র অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয় পোষ্টার ও লিফলেটে অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঢাকাতে রয়েছেন, শুনেছেন তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসি মানববন্ধন,পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে যার সভাপতি খোদ নড়াইল জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনজুমান আরা বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও পোষ্টার-লিফলেট বিতরণের বিষয়টি শুনেছেন,তবে লিখিত অভিযোগ পায়নী। তিনি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।