সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৬:০৬
শিরোনাম :
পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির দুই ডাবল ডেকার বাস উদ্বোধন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পারে,নলছিটি উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ফাহমিদা সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে সিনিয়রের বিরুদ্ধে জুনিয়রকে স্টাম্প দিয়ে আঘাতের অভিযোগ শায়েস্তাবাদে জনগনের আস্থার প্রতীক বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হেমায়েত হোসেন মুরাদ! বিএম কলেজে ছাত্রীদের জন্য পৃথক পাঠকক্ষ উদ্বোধন করলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ রাজধানীতে সাত রুটে কোম্পানিভিত্তিক ৮৬১ বাস চালু ৩ দাবিতে ৪ নভেম্বর মাঠে নামছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মেহেন্দিগঞ্জের পর এবার বাকেরগঞ্জে জামায়াতকর্মী সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের নাটক দারাজের ‘টপ অ্যাফিলিয়েট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘অ্যাফিলিয়েট স্টার’ সম্মাননা পেলেন ফ্রিল্যান্সার আসিফ আলী বরিশাল বোর্ডে ১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল,পাশের হার কমে ৪৪.৮৪ শতাংশ

যুবলীগ নেতা,নতুন পরিচয়ে ভিন্ন কায়দায় চাঁদাবাজির রামরাজত্ব কায়েমের চেষ্টা

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া ।। বিগত সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা নামে পরিচিত শীর্ষ চাঁদাবাজ ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত আবুল হাসান ওরফে হাসান নতুন পরিচয়ে ও ভিন্ন কায়দায় নতুন করে চাঁদাবাজির রামরাজত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ​দলীয় প্রভাব খাটানো সহ আবুল হাসান ওরফে হাসান তাঁর পুরোনো ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট নিয়ে মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজির জাল বিছিয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ও ব্যাবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।যা যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলেও যুবলীগ নেতা পরিচয়ে আবুল হাসান ওরফে হাসান দীর্ঘদিন পলাতক ও জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পরে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আবুল হাসান ওরফে হাসান। নিজের আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে বর্তমানে মতিঝিল বিমান অফিস গলিতে আস্তানা গেড়ে বসেছে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা পরিচয়ে আবুল হাসান ওরফে হাসান ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় আবুল হাসান ওরফে হাসানের নেতৃত্বে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরোনো চাঁদাবাজ চক্র।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাইকোর্ট, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন ও মতিঝিল এলাকার বহুল পরিচিত পেশাদার চাঁদাবাজ আবুল হাসান ওরফে হাসান বিগত ১৭ বছর ধরে মতিঝিলে এলাকায় চাঁদাবাজীতে একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি ফারুক খান ও এমপি শেখ সেলিমের সহযোগী হিসেবে ব্যাবসায়ী ও মতিঝিলে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বিগত ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সরকারের নেক্কারজনক পতনের সাথে সাথে আবুল হাসান ওরফে হাসান ও তাঁর সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

তবে অতি সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক খোলস ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক জামায়াত নেতার প্রশ্রয় নিয়ে তিনি তাঁর পুরোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছেন।

​অভিযোগ রয়েছে, মতিঝিলের বিশাল এলাকায় ফুটপাত গুলোতেও প্রতিদিন নীরব চাঁদা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করছে। এ চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আবুল হাসান ওরফে হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছিল। কিন্তু বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের পরিচয়ের কারণে তিনি সবসময়ই পার পেয়ে গেছেন।

মতিঝিল এলাকার একজন দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ৫ই আগস্টের পর শান্তিতে ব্যবসা করতে পারব, কোনো জুলুম থাকবে না। কিন্তু এখন দেখছি শুধু মানুষের মুখ বদলেছে, অত্যাচারের নিয়ম বদলায়নি। আবুল হাসান ওরফে হাসান ও তার লোকজন আবার চাঁদার টাকা তোলা শুরু করেছে। প্রতিবাদ করলে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

​অন্য একজন ব্যবসায়ী জানান, অতীতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের চাঁদাবাজির কারণে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু উল্টো আবুল হাসান ওরফে হাসানের পালিত গুন্ডাবাহিনীর তোপের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখন আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

কে এই আবুল হাসানঃ গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় আবুল হাসান ওরফে হাসানের বাড়ি। সে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতো। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সরকারী দপ্তর বিআরটিসিতে চাঁদবাজি করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এছাড়াও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার উপর হামলার কারনে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার অপব্যবহার বা দল পরিবর্তনের মাধ্যমে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জারি রাখছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গুলোকে যদি এখনই দমন করা না যায়, তবে তা সরকারের সুশাসনের মূল স্পিরিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ভুক্তভোগীদের উচিত ভয় না পেয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, মতিঝিল ও পল্টন এলাকাকে চাঁদাবাজ মুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।