আরিফ হোসেন, তজুমদ্দিন প্রতিনিধি ভোলার তজুমদ্দিনে প্রত্যান্ত অঞ্চলে এ বছর ব্যাপক আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের মাঝে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠ জুড়ে শুধু সবুজ আলু গাছের সমারোহ। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় আলুর বাম্পার ফলনের আশাবাদীও চাষিরা। আগামী এক থেকে দেড় মাস পরেই উৎপাদিত আলু ঘরে তুলবেন যে কারণে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, আলু চাষ বেশ লাভ জনক হওয়ায় এ উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক আলু চাষ করছেন কৃষকরা। এখানে সাধারণত বিএডিসি, ডায়মন্ড ও হাইব্রিড এই তিনটি জাতের আলুর চাষ বেশী হয়। তবে উচ্চ ফলনের আশায় অধিকাংশ কৃষকেরা ডায়মন্ড ও বিএডিসি জাতের বীজ বেশি রোপণ করেছে। এবছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ৪শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে। কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে ৩শ ২০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮০ হেক্টর কম। এতে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৫শ ৫০ মে.টন। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক কৃষকের রোপন করা আলুর বীজ নষ্ঠ হয়ে যায়।
চাঁদপুর ইউনিয়নের কৃষক মোঃ শামছুদ্দিন বলেন, হঠাৎ মৌসুমী বৃষ্টির কারণে আমার রোপন করা আলু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমার অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ফলে আলু চাষ করতে পারিনি।
শম্ভুপুর ইউনিয়নের আলু চাষি আবদুল মতিন বলেন, নিজের জমি না থাকায় নগদ টাকায় অন্যের জমি রেখে প্রতি বছর আলুর চাষ করি। গত বছর আলুর চাষ করে প্রায় এক লক্ষ টাকা লাভ করেছি। তাই এবছর ১২০ শতাংশ (১৫ কড়া) জমিতে ডায়মন্ড ও বিএডিসি জাতের আলুর চাষ করি। প্রতি কড়া জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচসহ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হবে। রোগবালাই না থাকলে ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রতি কড়া (৮ শতাংশ) জমিতে ৩০ মন করে আলু পাওয়ার আশাবাদী। এতে করে বেশ লাভবান হবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেন, আলুর জন্য ক্ষতিকর হলো ঘন কুয়াশা যা এখনো দেখা যায়নি। কুয়াশার কারণে নাবিধ্বষা রোগ হয়ে আলু গাছের পচন ধরে। এমন রোগ দেখা দিলে প্রতিশেধক হিসেবে ছত্রাক নাশক ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে পাশাপাশি সকালে সেচ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া আলুর চাষ করলে একই মৌসুমে আলু তোলার পর পরেই কোমড়ার চাষ করে অতিরিক্ত লাভবান হওয়া যায়। শুরু থেকেই আমরা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন মরামর্শ দিয়ে আসছি তারাও সময়মত পরিচর্যা করায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।