ডেস্করিপোর্ট বরিশালে পরীক্ষা দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে প্রাইভেটকারের সাথে সংঘর্ষে নাদিম (২৬) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার সম্মুখ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাদিম বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিল্ববাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মনিরুল ইসলাম আশ্রাব একজন প্রবাসী। পরিবারের বড় সন্তান নাদিম সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট প্রোভাইডার ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড এর একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের বড় এবং সবার প্রিয় নাদিমকে হারানোর শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার কর্মস্থল ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড এর সহকর্মীবৃন্দ। খবর পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ছুটে যান তারা। সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ। সহকর্মীদের কান্না আর স্বজনহারা আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
জানাগেছে,একমাসও হয়নি বিয়ে করেছেন নাদিম হোসেন। স্বপ্ন ছিলো উঁচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাবেন। নাদিমের সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিবে না। ঘাতক প্রাইভেট কার নিভিয়ে দিয়েছে নাদিমের জীবন প্রদীপ। সেই সাথে ভেঙে গেছে পরিবারের বুক জোড়া স্বপ্ন। আর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর গায়ে জুড়ে দিয়েছে সাদা কাপড়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘নাদিমের অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। বিকাল ৫টার দিকে পরীক্ষা শেষে নিজ মোটরসাইকেল যোগে ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বিএম কলেজ সংলগ্ন বিভাগীয় গণ গ্রন্থাগারের সামনে পৌঁছানো মাত্রই বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট কার নাদিমের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল নিয়ে ছিটকে রাস্তায় ওপর পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এবং স্থানীয়রা নাদিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাদিমের ছোট ভাই নাজমুল ফকির জানান, বাবা সৌদি থাকেন। আমরা দুই ভাই-বোন, মা এবং ভাবিসহ বরিশালে থাকি। নাদিম ভাই ২২ দিন হয়েছে বিয়ে করেছেন। আমি কি করবো, কিছু বুঝতে পারছি না। আমরা এখন অসহায় হয়ে গেলাম।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘মৃত অবস্থায় নাদিম হোসেনকে তারা পেয়েছেন। তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে মৃত্যু হতে পারে। মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নাদিমের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার সহপাঠী এবং সহকর্মীরা। ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড এর স্টাফরা বলেন, নাদিম অত্যন্ত ভালো ছেলে। হঠাৎ তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমরা ওর মৃত্যুর জন্য যারা দায়ি তাদের বিচার দাবি করছি।
ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার মো. এনামুল হক বলেন, ‘নাদিম আমাদের খুব কাছের একজন সহকর্মী। সে ইউরোটেলকে অনেক কিছু দিয়েছে। তার এমন মৃত্যু আমাদের কাম্য ছিলো না। আমরা চাই ওর এমন মৃত্যুর জন্য দায়ি এবং অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আর নাদিমের পরিবারের যে কোন প্রয়োজনে ইউরোটেল বিডি পাশে থাকবে বলেন তিনি।