মাসুদ পারভেজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ কালিগঞ্জে কাঁকশিয়ালী নদীর চর দখল করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ইট ভাটা মালিকদের ব্যবহারিত ট্র্যাক, টলি, ট্রাক্টর, ডাম্পার অবৈধভাবে চলাচলের কারণে কালিগঞ্জ উপজেলার সদর হতে কাঁকশিয়ালী ব্রিজের নিচ হইতে উত্তর শ্রীপুর, গোবিন্দকাটি সড়কটির বেহাল দশায় জনদূর্ভোগ চরমে উঠেছে।
প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী গত ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ এবং জেলা প্রসাশক, জেলা পুলিশ সুপার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এবং থানা অফিসার্স ইনচার্জকে অবগতি করলেও বিষয়টির কোন প্রতিকার না হওযায় দুইটি ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের জন সাধারণ ভাটা মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এলাবাসীর লিখিত অভিযোগ এবং সরেজমিনে গতকাল শনিবার বেলা ১১টার সময় গেলে বাজারগ্রাম এলাকায় বসবাস কারি আলমগীর হোসেন, আজমল হোসেন, ময়নুদ্দীন, জাকির হোসেন, সুজন, কাদের, সহ একাধিক ব্যাক্তি জানান কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের কাঁকশিয়ালী ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তাটি বাজারগ্রাম, মদিনার দরগাহ, ঘোজাডাঙ্গা, উত্তর শ্রীপুর, গোলখালী হয়ে গোবিন্দকাটি পযর্ন্ত প্রায় ১০ কিঃ মিঃ রাস্তা চলে গেছে। উক্ত রাস্তাটি প্রতিদিন কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজারগ্রাম, মদিনার দরগাহ, ঘোজাডাঙ্গা ছাড়াও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর শাড়াতলা, মনোহরপুর, গোবিন্দকাটি, বেড়াখালী এবং পাশ্ববর্তী নবীনগর এলাকায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে যাতায়ত করে।
উক্ত রাস্তার উত্তর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত শত জায়গা ভাটা মালিকরা চর দখল করে এবং রাস্তার দক্ষিণ পাশর্^ দিয়ে গড়ে তুলেছে একাধিক ইটের ভাটা আর এই সমস্ত ভাটার মাটি, বালু, ইট, কয়লা, বহনের জন্য ট্র্যাকসহ অবৈধভাবে চলাচলকারী ট্রাক্টও, টলি, ডাম্পার চলাচলের কারণে রাস্তার দু-পাশ ভেঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপোযগী হয়ে পড়েছে এবং কোথায় কোথায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেঁড়ি ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে এ সমস্ত প্রভাবশালী ভাটা মালিক এবং তাদের পোষ্য ক্যাঁডারা উল্টো চাঁদাবাজীর মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে এলাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছে। থানা প্রসাশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে কাগজ পত্র ব্যতিত মটরসাইকেল সহ ইজিবাইক ইঞ্জিনভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ করলেও অবৈধভাবে ভাটায় ব্যবহারিত ট্রাক্টর, টলি, ডাম্পার, শ্যালোমেশিনের ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি মিনিট্রাক অবাধে চলাচল করলেও দেখার কেউ নেই।
এই বিষয়ে অফিসার্স ইনচার্জ দেলোয়ার হুসেনকে জিঞ্জাসা করলে তিনি বলেন আইনগত পদক্ষেপ নিতে হলে উপজেলা নিবার্হী ম্যাজিষ্টেট না থাকায় এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি নাই বিধায় প্রসাশনিক কাজে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।