মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:৪২
শিরোনাম :
বরিশাল সিটি নির্বাচনে এনসিপির একক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন শিকদার! বরিশাল আদালত চত্বরের ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে‘সেবা দিবস’পালিত বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে এ বছরই সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর: শিক্ষামন্ত্রী বরিশালে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলের প্যারেন্টিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত বিসিসি নির্বাচনে মাঠে তৎপর এনসিপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন শিকদার! কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার

স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া ।। স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ।ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে এমন ভুয়া অভিযোগ তুলছেন স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্র । ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হওয়ার ঘটনার কথা বলে অযৌক্তিক দাবি স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের । নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামত সেখানে কম ব্যয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু কম ব্যয় করাও তার অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগ কর্মকর্তা যেন এখন এক ‘সফল কর্মকর্তার নাম ’। ভুক্তভোগী লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ি। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকা পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু সেই ঘটনা এখন আর নেই। এখন ড্রেজার চলে কিন্তু গভীরতা বাড়ে এ এক অলৌকিক রহস্য।

সরকার হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে কাজ হচ্ছে কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষতায় নদীগুলো ড্রেজিং হচ্ছে সঠিকভাবে। সরকারের সফলতা বাড়ছে। জাহাজ আটকা পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিলো যাহা এখন ঘটে না।এটিও তাদের অপরাধ স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের কাছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে যাহা অনৈতিকভাবে কোন ঠিকাদার কে কাজ না করে বিল উত্তোলন করতে দেয়া হয় না। এটিও স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের কাছে অপরাধ।জ্বালানির টাকা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী চুরি করতে দেয় না অনেক অসাধু কর্মচারিদের মাথাব্যথার কারন এটি । বিগত দিনে জ্বালানি তৈল চুরি করতে পেরেছে তারাই তার সততার বিরুদ্ধে কথা বলছে গোপনে।

এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ড্রেজিং প্রকল্পে অনিয়ম আগে ছিলো বতর্মানে নেই। প্রধান প্রকৌশলীসহ বর্তমানে যারা রয়েছে তারা ভালো কাজ করতেছে। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে পারে সেটিও ঠিক হয়ে যাবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলীসহ মামুন উর রশিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যে অর্জন তা প্রশংসনীয়।ড্রেজিং প্রকল্পটি আগের তুলনায় এখন অনেক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। প্রযুক্তিগত তদারকি ছাড়াই নদী খনন কখনোই এত সফলতা আসেনি। ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু করে এই সফলতা এসেছে।

এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র এই নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ নিয়ে তাই সফলতার গল্প তৈরি হচ্ছে সব মহলে। আর স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের মন গড়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশ করে চলছে।

বিআইডব্লিউটিএর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেট তাঁর পেশাগত সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য ছড়াচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে একজন প্রকৌশলী হিসেবে মামুন উর রশিদের মত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা এমন একজন কর্মকর্তা পেয়েছি। তাঁর বিরল দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি আজ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।​তিনি আরও বলেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হোক। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ সত্য হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সংবাদমাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যেসব প্রকল্প বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে একজন সদস্য প্রকৌশলীর প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু ছিল, সেটিও সংবাদ প্রকাশের আগে খতিয়ে দেখা আবশ্যক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে কর্মরত আছেন মো. মামুন উর রশিদের বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হল:

১. ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদান করেন। সম্প্রতি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র নদী খনন (ড্রেজিং) প্রকল্পে অনিয়ম, কারিগরি তদারকির অভাব এবং অদক্ষতার মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২. তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকাশিত এসব সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশিত হয়েছে।

৩. ​কথিত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, খননকৃত বালু বা পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলার কারণে তা পুনরায় নদী ভরাট করে ফেলছে, যার ফলে সরকারের ড্রেজিং প্রকল্পের প্রকৃত সুফল মিলছে না। কিন্তু অনুসন্ধানে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

৪. দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি সহকর্মীদের অন্তরঙ্গ বিশ্বাস ও গভীর শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।

৫. দক্ষতা, চৌকস ও অভিজ্ঞতার এক উজ্জ্বল নাম। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করে তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

​এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বলেন,কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনিয়ম বা অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।
​তিনি প্রকাশিত সংবাদগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,”সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করা অবশ্যই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।​সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হোক। কিন্তু মিথ্যা,বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে তাতে শুধু একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পরিশেষে তিনি বলেন, সময়ই সব কিছুর নির্ণায়ক,এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।