বৃহস্পতিবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ২:০৭
শিরোনাম :
১০ টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় ফের অপ-প্রচারের শিকার বরিশাল বিআরটিসির ম্যানেজার জুলফিকার! সেবা ও নিরাপত্তায় সজাগ বরিশাল ল্যাবএইড, চুরির সময় আটক নারীকে পুলিশে সোপর্দ এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেল এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বরিশাল সিটি নির্বাচনে এনসিপির একক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন শিকদার! বরিশাল আদালত চত্বরের ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে‘সেবা দিবস’পালিত বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে এ বছরই সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় ফের অপ-প্রচারের শিকার বরিশাল বিআরটিসির ম্যানেজার জুলফিকার!

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) মো. জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ম্যানেজার জুলফিকার আলী ডিপোর শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি দুর্নীতিমুক্ত বিআরটিসি বাস ডিপো গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, সরকারি অর্থায়ন ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত বিনামূল্যের মোটরযান ড্রাইভিং ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। এ কারণে ২০০ প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগকে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

তাদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা, উপস্থিতি, প্রশিক্ষণ ও ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হলেও এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
বিআরটিসি ডিপোর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ আসতে পারে। তবে সুপারিশ থাকা মানেই অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন নয়।
তারা জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগও ভিত্তিহীন
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের নামে জ্বালানি অপচয় বা তেল আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়েও ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নির্ধারিত নিয়মেই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। প্রশিক্ষণের সময় ব্যবহৃত জ্বালানির হিসাবও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় থাকে।

তাদের দাবি, ডিপোর জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তা হিসাব-নিকাশ ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করলেই স্পষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ ছাড়া তেল চুরির অভিযোগ তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

স্বাস্থ্য সনদ নিয়েও বিভ্রান্তি
প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাস্থ্য সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য সনদ দেওয়া হয়। এসব সনদ ভুয়া বা সাজানো-এমন অভিযোগেরও কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই।

তাদের মতে, স্বাস্থ্য সনদ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাই করা যেতে পারে। যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা উচিত নয়।

ভুয়া হাজিরা ও ভাতা আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার
মৃত, অনুপস্থিত ব্যক্তি কিংবা কর্মচারীদের নামে ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে প্রশিক্ষণ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা ও ভাতা সংক্রান্ত তথ্য সরকারি নথিতে সংরক্ষিত থাকে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার, প্রশিক্ষণার্থী তালিকা ও আর্থিক নথি যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

দুর্নীতিমুক্ত ডিপো গঠনে জুলফিকারের উদ্যোগ
ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিআরটিসি ডিপোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

তাদের দাবি, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাস ডিপো গড়ে তুলতেই কাজ করে যাচ্ছেন ম্যানেজার জুলফিকার আলী। এ কারণে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, অভিযোগ থাকলে তদন্ত হতেই পারে। তবে তদন্তের আগেই কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। সরকারি নথি, হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা কিংবা অসত্যতা স্পষ্ট হবে।

তাদের প্রত্যাশা, প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর চলমান কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করা হবে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব বিআরটিসি ডিপো গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।