ডেক্সরিপোর্ট:মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা। রোববার বিকেলে তিনি ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো:জাকির হোসাইনের আদালতে এই জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, নুসতার হত্যার মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন জেলহাজত থেকে তিনি নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলে থাকা অবস্থায় নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়ার জন্য বলেন অধ্যক্ষ সিরাজ। কাজ না হলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতেও নির্দেশ দেন তিনি।
গত ১০ এপ্রিল বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত অধ্যক্ষ সিরাজের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিরাজ উদ দৌলাসহ নয়জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ।
এদিকে একই আদালতে মো. লোকমান ওরফে লিটন নামের একজন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। লোকমান সোনাগাজীর ভূইয়াবাজারের ব্যবসায়ী। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার জন্য আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ওই দোকান থেকে কেরোসিন তেল কিনেছিলেন।
এর আগে গত ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলায় পুলিশ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে ৯ এপ্রিল সিরাজকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।