ডেক্সরিপোর্ট বরিশাল নগরীর বাজার রোডের খাজা মঈন উদ্দিন চিস্তী (রহ.) মাদ্রাসার সদ্য ঘোষিত কমিটিকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চান। একই সাথে কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর আগরপুর রোডস্থ শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এবায়েদুল হক চান অভিযোগি করে বলেন, মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হালিম পদাধিকার বলে কমিটির সাধারন সম্পাদক। তিনি সভাপতি ও কমিটির অন্যকোন সদস্যকে দাওয়াত বা না জানিয়ে নিজে একটি মণগড়া কমিটি গঠন করেছেন। যা সম্পূর্ন অবৈধ। নিজেকে বর্তমান সভাপতি দাবি করে এবায়দুল হক চাঁন বলেন, যেখানে কোন গঠনতন্ত্র নেই সেখানে কোন নিয়মের বলে কমিটি ঘোষনা করা হল।
তিনি বলেন, বরিশাল নগরীর বাজার রোডের খাজা মঈন উদ্দিন চিস্তী (রহ.) মাদ্রাসার কমিটিতে গত ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়। একাধিক ব্যাক্তির প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড সম্পন্ন করা হয়। ওই সময়ে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা অনুদান প্রদান করেন। মাদ্রাসা স্থাপনের পর সামনে একটি মার্কেটও নির্মান করা হয়। এছাড়াও মাদ্রাসার জন্য পেছনের জমি ক্রয় করা হয়। এখন সেই জমি দখল করে রেখেছে মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষক। তারা ওই জমিতে বসতবাড়ী নির্মান করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। আমি তাদেরকে ওই জমি ছেড়ে দিয়ে মাদ্রাসার ভবন নির্মানের কথা বললে তারা আমার কথার কর্ণপাত করেনা। এমনকি মার্কেট থেকে হওয়া আয়ের অর্থ তারা ব্যাংকের মাধ্যমে নিজেরাই খরচ করছেন। আমি সভাপতি হওয়া সত্বেও তারা আমার কথা শোনেনা। কারণ আমাদের মাথায় টুপি আর দাড়ি নেই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, বাজার রোডের খাজা মঈনউদ্দিন চিস্তী (রহ.) মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সৈয়দ কাওসার হোসেন। তিনি ছিলেন আজীবন সভাপতি। তার মৃত্যুর পর আমি এ মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত হই। গঠনতন্ত্র না থাকায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যিনি সভাপতি থাকবেন তার মৃত্যুর আগে অন্য কেউ নতুন করে সভাপতি হতে পারবে না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমটাই হয়ে আসছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে খাজা মঈন উদ্দিন চিস্তী (রহ.) মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি কাওসার হোসেনের মৃত্যুর পরে এবায়েদুল হক চাঁন সু-কৌশলে সভাপতি হন। এর পর থেকেই তিনি মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা করে আসছিলেন। আমাদের মাদ্রাসার একটি মার্কেট রয়েছে। যেখান থেকে বছরে কোটি টাকা আয় হয়। কিন্তু দুঃখজন বিষয় হলো বিগত ৫ বছর ধরে ওই মার্কেটের আয় এবং ব্যয়ের কোন হিসাব এবায়েদুল হক চান আমাদেরকে দেননি। আমি মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্যেও আমাকেও তিনি এ বিষয়ে কোন হিসাব বা কথা বলার সুযোগ দেননি।