ডেক্সরিপোর্ট:দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছিলেন না সুখ চাঁদ মিয়া। ওই গ্রামের সুখ চাঁদ, ফুরকান আর চাঁদ আলীরাও একই সমস্যায় ছিলেন। পরে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসলেন অর্ধ শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার এসব কৃষকের ৭টি প্লটের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাজ করেন।
পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক জানান, কৃষকদের ধান কাটতে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তারপর থেকেই পাবনার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তার নেতৃত্বে ৩টি টিমে ৬০ জনকে নিয়ে তারা উৎসব আমেজে সদর উপজেলার পাটকিয়াবাড়ি গ্রামে বিভিন্ন কৃষকের ধান কেটে দেন। শুক্রবার এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এদিন পৌর ছাত্রলীগ ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধান কাটায় অংশ নেবেন বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ফুরকান, চাঁদ আলী ও সুখ চাঁদ মিয়ার ক্ষেতের ৭টি প্লটে তারা ধান কাটেন। ধান কাটা নিয়ে দুঃখে থাকা কৃষক সুখ চাঁদের ক্ষেতে কাস্তে নিয়ে ছাত্র নেতাকর্মীরা হাজির হলে তিনি অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘ধান কাটা লিয়ে মহাবিপদে ছিলেম। ছাত্তররা আইসে আমাক মুহা বিপদ থিকে বাঁচালে। আমি এ্যাহন সুখী। শেখের বিটির(প্রধানমন্ত্রী) জন্য দুয়া করি।’
একই রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন চাঁদ আলী আর ফুরকান। ফুরকান আলী বললেন- ‘টাকা দিলিও লেবার মিলতিচে না। আজ (বৃহস্পতিবার) আমি সাড়ে ছয়শ ট্যাহা দিয়ি মাত্তর এটা লেবার পাইছিলাম।’
পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক আরও জানান, আমি নিজেই নেমে পড়েছি ধান কাটতে। এতে জেলার শত শত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী উৎসাহের সঙ্গে এ কাজে শরিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আমি এরই মধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি যে, পাবনা জেলার কোথায় কোথায় চাষীরা সমস্যায় আছে তা জানাতে। আমরা সবখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হাজির হব।
বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে আরও ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান সেখ, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ আলী, রাজু আহমেদ খান, সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক সজল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, এডওয়ার্ড কলেজ শাখার সহ-সভাপতি আবদুর রহিম প্রমুখ।