ডেক্সরিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও গুরুত্ব দিয়ে পুরো ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে সরকার। দেশে যখন করোনার প্রকোপ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে, তখন স্বয়ং সরকার প্রধান বললেন, ‘প্রত্যেক জেলায় আইসিইউ সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’
সোমবার(২৭ এপ্রিল) সকালে গণভবন থেকে করোনা পরিস্থিতি তদারকি এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিতে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এই কথা বলেন তিনি।
অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক জেলাতেই কিন্তু ভালো হাসপাতাল দেখে সেখানে আইসিইউ এর ব্যবস্থা করবো, এটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে এটা সব জেলাতেই করা হবে। যারা আইসিইউ পরিচালনা করবেন তাদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করে দেবো।’
করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের অভিযোগ আসতে শুরু করে। এ প্রসঙ্গেও স্পষ্ট দিক নির্দেশনা আসে সরকার প্রধানের বক্তব্যে।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের চিকিৎসাসেবায় কাজ করার জন্য বিশেষভাবে আমরা ২ হাজার ডাক্তার নতুন করে নিয়োগ দেবো। এই প্রক্রিয়া কিন্তু শুরুও হয়ে গেছে। একইসাথে নিয়োগ দেয়া হবে ৬ হাজার নার্সও। আমি নিজে বৈঠক করে এসব বিষয় চূড়ান্ত করে দিয়েছি।
এছাড়া, ‘নতুন এসব চিকিৎসকদের করোনার চিকিৎসায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। দেশের কোনো জায়গার মানুষই যাতে চিকিৎসা বঞ্চিত না থাকে, সেজন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাবো।’
এছাড়া, দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে যাতে যথাযথভাবে কৃষিজমি কাজে লাগানো হয়, সেই নির্দেশনাও দেন সরকার প্রধান। জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পরিস্থিতি যাচাই করার সময় শেখ হাসিনা বলেন- ‘এসব জায়গায় ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই কী কী ভাবে জমিগুলোকে কাজে লাগানো যায়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’ প্রয়োজনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন- ‘জয়পুরহাটের জমিগুলোতে ধান কাটার পর তো রসুনও বোনা যেতে পারে’।
করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পরও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ‘নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ আর অর্থনৈতিক মহামন্দা দেখা দিতে পারে’। এ অবস্থা থেকে যাতে নিজেদের উত্তরণ ঘটানো যায়, সেজন্য সবাইকে সাধ্যমতো কৃষিজমিগুলো উৎপাদনমুখী করার নির্দেশনা দেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।