সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৬:৩৯
শিরোনাম :
পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির দুই ডাবল ডেকার বাস উদ্বোধন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পারে,নলছিটি উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ফাহমিদা সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে সিনিয়রের বিরুদ্ধে জুনিয়রকে স্টাম্প দিয়ে আঘাতের অভিযোগ শায়েস্তাবাদে জনগনের আস্থার প্রতীক বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হেমায়েত হোসেন মুরাদ! বিএম কলেজে ছাত্রীদের জন্য পৃথক পাঠকক্ষ উদ্বোধন করলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ রাজধানীতে সাত রুটে কোম্পানিভিত্তিক ৮৬১ বাস চালু ৩ দাবিতে ৪ নভেম্বর মাঠে নামছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মেহেন্দিগঞ্জের পর এবার বাকেরগঞ্জে জামায়াতকর্মী সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের নাটক দারাজের ‘টপ অ্যাফিলিয়েট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘অ্যাফিলিয়েট স্টার’ সম্মাননা পেলেন ফ্রিল্যান্সার আসিফ আলী বরিশাল বোর্ডে ১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল,পাশের হার কমে ৪৪.৮৪ শতাংশ

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পারে,নলছিটি উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ফাহমিদা

মেহেরাব হোসেন রিফাত,বরিশাল ।। সাফল্যের জন্য শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট ধারা বাধা হতে পারে না, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও নিয়মিত প্রচেষ্টাই পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। সেই কথারই যেন বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ফাহমিদা জাহান। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এ সাফল্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে এ কারণে যে, তিনি কোনো সাধারণ কলেজের শিক্ষার্থী নন, ফাহমিদা নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়েই এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। যখন উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল হতাশাজনক, তখন ফাহমিদার এই অর্জন নতুন করে সামনে এনেছে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার বিষয়টি। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, যথাযথ প্রস্তুতি, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিয়মিত অধ্যবসায় থাকলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনে সক্ষম।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভোকেশনাল ও বিএম এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে নলছিটি উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন। আর সেই একমাত্র শিক্ষার্থী ফাহমিদা জাহান।

উপজেলা পর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নলছিটিতে সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৭০ জন। পাসের হার ২৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। ভোকেশনাল ও বিএম শাখায় ১৫৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৪ জন। অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় ১৯৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৫৮ জন। এ শাখায় পাসের হার ২৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

তিনটি শাখা মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৭২ জন। সার্বিক পাসের হার ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। উপজেলার এমন হতাশাজনক ফলাফলের মধ্যে ফাহমিদার জিপিএ-৫ অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যও বড় অর্জন।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফাহমিদা জাহান বলেন, এ অর্জনের জন্য মহান রব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বাবা-মায়ের দোয়া ও শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমি এ ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমার শিক্ষকরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের প্রতিও আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে যেন ভালো কিছু করতে পারি, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।

একজন বাবা হিসেবে মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দিত ফাহমিদার বাবা। তিনি বলেন, আমার মেয়ে পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে, এটি একজন বাবা হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আশা করি, ভবিষ্যতে সে একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে এবং দেশ ও ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করবে। মেয়ের এই সাফল্যের পেছনে অবদান রাখায় তিনি মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বাহাউদ্দীন বলেন, আলিম ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর সামগ্রিক ফলাফলে হতাশাজনক চিত্রের মধ্যেও আমাদের প্রতিষ্ঠানের ফাহমিদা জাহানের জিপিএ-৫ অর্জন অত্যন্ত গৌরবের। নলছিটি উপজেলায় এবার সে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী। ফাহমিদা প্রমাণ করেছে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে। তার এ সাফল্যে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

নলছিটি উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আমিন বলেন, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এবার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার একজন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ ছাড়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এদিকে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি। এ বছর জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৬৫৩ জন। পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৮ জন।

জেলার সামগ্রিক ফলাফল এবং নলছিটি উপজেলার হতাশাজনক পাসের হারের বিপরীতে ফাহমিদার সাফল্য আলাদা করে নজর কেড়েছে। শিক্ষার মাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীর আগ্রহ, অধ্যবসায় ও শিক্ষার পরিবেশই যে সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ফাহমিদার অর্জন সেই বার্তাই দিচ্ছে। মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরাও যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতোই মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, নলছিটির এই সাফল্য তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।