শুক্রবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, দুপুর ২:৪৯
শিরোনাম :
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন করতে হবে : বিএমপি কমিশনার বরিশাল জেলা ছাত্রদল সভাপতি মিঠু বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্যে টিকা নেয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে লক্ষাধিক করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি একাত্তরের ঘটনা ভুলে যাওয়া বা ক্ষমা করা যায় না: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে ফিরতে চান বাইডেন! বরিশালে এডিসি জাকারিয়া রহমান জিকুর বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত নাগর্নো-কারাবাখ সংঘর্ষে আজারবাইজানের প্রায় ৩ হাজার সেনা নিহত গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত সেনাবাহিনী : সেনাপ্রধান

আম-লিচুসহ মৌসুমি ফল বিপণনে ১০ দফা সুপারিশ

ডেক্সরিপোর্ট  বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের বিক্রি নিশ্চিতে নির্বিঘ্ন যাতায়াত ব্যবস্থা নেয়াসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনার কারণে তরমুজ চাষিরা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেনি। যা বিক্রি করেছে তার ভালো দামও পায়নি। ইতোমধ্যে আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এসব মৌসুমি ফল সঠিকভাবে বাজারজাত না করা গেলে চাষীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ মানুষ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ এই সময়ে করোনা মোকাবিলায় দৈহিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৌসুমি পুষ্টিকর ফল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহ্রিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

সভায় থেকে যে ১০ দফা সিদ্ধান্তের জানান দেওয়া হয়-

১. হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হয়েছে, তেমনি অন্যান্য জেলা হতে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়াদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা এবং প্রয়োজনে তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২. মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, পরিবহণের সময় হয়রানি থেকে বাঁচতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া।

৩. বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারের উদ্যোগ।

৪. স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো।

৫. পার্সেল ট্রেনে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যহার করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা।

৬. ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হ্রাস করা।

৭. ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানো।

৮. অনলাইনে এবং ভ্যানযোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ।

৯. প্রাণ, একমি, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার,আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে তাদেরকে এ বছর বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো। ইতোমধ্যে তারা এ বছর বেশি করে আম কিনবেন বলে জানিয়েছে।

১০. মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করাসহ ‌সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লক্ষ ৩২ হাজার মে.টন। রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নাটোর, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে অধিকাংশ আমের ফলন হয়। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে, আনারসের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ৪ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।