ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়ায় বিয়ের দাবিতে অনড় অবস্থানে প্রেমিকা, গা ঢাকা দিয়েছে প্রেমিক। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন জনপ্রতিনিধি সহ এলাকা বাসী।
জানা গেছে, গত সাড়ে ৩ বছর পূর্বে রুহিয়া থানার ঢোলার হাট ইউনিয়নের ধর্মপুর ভদ্রপাড়া গ্রামের জালালউদ্দীনের ছেলে লাফিজুর রহমানের (২৮) সঙ্গে প্রাইভেট পড়ার সূত্র ধরে পরিচয় হয় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শান্তিনগর বাহাদুর পাড়া গ্রামের মৃত: শফিকুল ইসলামের মেয়ে লাইজু আক্তারের (২৫) (ছদ্দ নাম)।পরিচয়ের এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে এক গভীর প্রেমের উদ্ভব হয়।
এরই জেরে উক্ত প্রেমিক প্রেমিকা বিভিন্ন পার্কে আড্ডা দেওয়া সহ নানা আত্মীয় স্বজনের বাসায় গভীর ভাবে মেলামেশা করতে থাকে। প্রেমিক লাফিজুরের কথা ছিল প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করবে। ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে যায় সাড়ে ৩ বছর। দুই জনই গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করে। লাফিজুর চাকুরী না পেয়ে জীবন জীবিকার উদ্দেশ্যে ঢোলার হাট বাজারে কম্পিউটারে মেমরী লোড, ফ্লেক্সি লোড ও পেট্টোল বিক্রির একটি দোকান দেয়।
এমতাবস্থায় প্রেমিকা লাইজু তার প্রেমিক লাফিজুরকে বিয়ের জন্য জোরে সোরে চাপ দিতে থাকলে পরিবারের অসম্মতিতে লাফিজুর টালবাহানা শুরু করে। উপায়ন্তর না পেয়ে গত ১৪ জুন শুক্রবারে প্রেমিকা লাইজু পিতার ঘর ছেড়ে ঢোলার হাটে এসে প্রেমিক লাফিজুরের বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান নেয়। ইতিমধ্যে বিষয়টি এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ এলাকাবাসীর নজরে চলে আসে।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরে প্রেমিক লাফিজুর তার পরিবারের পরামর্শ অনুযায়ী গা ঢাকা দেয়। এলাকা বাসীর মধ্যস্থতায় লাইজু একদিন লাফিজুরের চাচা জামালের বাড়িতে রাত্রী যাপন করে, একদিন উক্ত এলাকার ইউপি সদস্য ঈমান আলী মেম্বারের বাড়িতে রাত্রী যাপন করে সর্বশেষ গত ১৬ জুন রোববার লাইজু আবারো প্রেমিক লাফিজুরের বাড়ীতে চলে আসে। লাফিজুরের মা ও বোনবিষয়টি মেনে নিতে না পেরে লাইজুকে তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার জন্য শারিরীক ভাবে নির্মম নির্যাতন করলেও লাইজুর দৃঢ় অবস্থান লক্ষ্য করে তারা নিজেরাই উক্ত বাড়ি ছেড়ে তাদের গ্রামের বাড়ি বলদিয়া পাড়ায় আশ্রয় নেয়।
লাফিজুরের প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যেপ্রাণপণ চেষ্টা চালালেও এলাকা বাসী অসহায় লাইজুর পক্ষাবলম্বন করায় জনপ্রতিনিধিরা প্রেমিক যুগলের বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় এবং লাফিজুরের পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
সরেজমিনে ভুক্ত ভোগি প্রেমিকা লাইজু (ছদ্দনাম) সাংবাদিকদের জানান,“লাফিজুর বিগত সাড়ে ৩ বছর যাবত আমাকে স্ত্রীর ন্যায় ব্যবহার করেছে। আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে লাফিজুরের পরিবারের ঘর নির্মাণ কাজে প্রায় লক্ষাধিক টাকা প্রদান করেছি। লাফিজুর এখনো আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছে কিন্তু তার পরিবারের চাপে সে গা ঢাকা দিয়েছে। আমাকে যদি লাফিজুর বিয়ে না করে তাহলে এখানেই আত্মাহুত্তি দেওয়া ছাড়া আমার আর কাউকে মুখ দেখানোর সুযোগ নেই।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ঈমান আলী ঘটনার বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান,“মেয়েটি আমার বাড়িতে এক রাত্রী যাপন করে। আমি ছেলেকে হাজির করার জন্য তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করেছি।” ঢোলার হাট ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মন নির্মল জানান, আমি বিষয়টি মিমাংসার জন্য দুই পরিবারকে নিয়ে একদিন বৈঠকে বসেছি কিন্তু লাফিজুর উপস্থিত না থাকায় কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারিনি। তবে লাফিজুরের পরিবার তাকে হাজির করলে আবারো বসার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এ ব্যাপরে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার রায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,“ ঘটনাটি আমি শুনেছি মেয়েটি যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগে সে বিষয়ে আমরা সদা সতর্ক রয়েছি এবং অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”