ডেক্সরিপোর্ট বরিশাল নগরীর রুপাতলীর চান্দু মার্কেট এলাকার গৃহবধু রিনা। করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৮ মে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। ভেবেছিলেন বিশেষ এ রোগের জন্য বিশেষ সেবাই পাবেন তিনি। তাই করোনা রোগী হয়েও ভর্তির পূর্বে মানসিক ভাবে অনেকটা সমৃদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু ভর্তির প্রথম ৩ দিনে ইউনিটের ডাক্তার নার্স চোখে দেখেন নি তিনি। পরে পাশের অন্য এক রোগীর পরামর্শে বাহিরের দোকান থেকে মাস্ক কিনে এনে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করেন রিনার স্বামী রাব্বী।
কিন্তু কে দিবে অক্সিজেন সংযোগ। ঘন্টার পর ঘন্টা ওয়ার্ড বয় কে ডেকে অনুনয় বিনয় করে স্ত্রীকে অক্সিজেন দিতে সমর্থ হন তিনি। কিন্তু বিনিময়ে ঘুষ হিসাবে দিতে হয়েছে নগদ ৫’শ টাকা। রিনার করোনা চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পরের গল্পটা ছিলো আরো করুন। স্বামীকে ডেকে দিনে দুই বার ঔষধ ধরিয়ে দিতেন সেবিকারা (নার্স)। জীবনের শংকা থাকলেও ডাক্তার নার্সদের সেবা প্রদানের এমন ধরন দেখে স্ত্রীর পাশে থেকেই সেবা করে গেছেন স্বামী রাব্বী।
রিনা বলেন দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসিছে। কিন্তু এই ১৪ দিনে একজন ডাক্তার বা নার্সের চেয়ারা মুখ কেমন তা একবারের জন্য দেখিনি। দুর থেকে শুধু তাদের কথাই শুনতে পেয়েছি। খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন হাসপাতালে সাধারন রোগীদের যে খাবার দেয়া হয় আমাদেরও তাই দেয়া হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষ দু একটি খাবার হয়ত বেশী দিয়েছে। রিনা আক্ষেপ নিয়ে বলেন চিকিৎসা না পেলে ডাক্তার নার্স না থাকলে হাসপাতাল আর ঘরের মধ্যে পার্থক্য কি ? সরকার করোনা রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না।
শুধু রিনাই নয় এ ভাবে ধুকে ধুকে করোনাকে জয় করা সিকদার পাড়ার ইয়াসিন তারেক ও কলাপাড়ার ইব্রাহীমের কন্ঠেও একই অভিযোগ। তারা বলেন দু বেলা সরকারী ঔষধ আর গ্যাস সিলিন্ডারের সাপোর্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। তারা বলেন ডাক্তার কিংবা নার্সদের সেবায় নয় এই ইউনিট থেকে যারা সুস্থ হয়ে ওঠেন তারা শুধু মাত্র আল্লাহর কৃপা এবং নিজের মনোবলের কারনেই ভাল হয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন বলেন অন্য সাধারন সব রোগীদের মত করোনা রোগীদের প্রতিদিন ভিজিট করার প্রয়োজন হয় না। তারপরও কোন রোগী সমস্যা অনুভব করলে তা দায়িত্বরত চিকিৎসক বা নার্সকে অবহিত করলেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন আমাদের ভেন্টিলেটর বা গ্যাসের কোন সংকট নেই। মুমূর্ষ রোগীকে আইসিউ সাপোর্টও দেয়া হচ্ছে। তারপরও ডাক্তার নার্সরা করোনা ঝুকির বাইরে নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।