মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ ইং, বিকাল ৫:২১
শিরোনাম :
অপপ্রচারের শিকার বরিশালের আইনজীবী জাকির, পাওয়া গেল ভিন্ন তথ্য মাথা কেটে আলাদা করার সময়ও বেঁচে ছিল শিশু রামিসা! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইরানের সঙ্গে হয় অর্থবহ চুক্তি, নয়তো কোনো চুক্তিই নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত যা চাইবে, তাই পাবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প গৌরনদীতে মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নারী শিশু সহ আহত ৫ কোরবানির সিদ্ধান্তে জটিলতা, খামারিদের ঘরে ঘরে কান্নার রোল জুলাই সনদ না মেনে জন আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেয়ায় সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুঃ বেলভিউ কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহণ চালালে লাইসেন্স বাতিল

জমিদার দের অপুর্ব নিদর্শণ আজও দাঁড়িয়ে আছে,রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে প্রাচীন মন্দিরগুলো আজ জরাজীর্ণ!

উজ্জ্বল রায়, সাতক্ষীরা থেকে ফিরে: জমিদার বাবু দের অপুর্ব নিদর্শণ হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন মন্দিরগুলো সংস্কার রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে জরাজীর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন মন্দিরগুলো সংস্কারের অভাবে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রকৃতির অপ‚র্ব পুরাকীর্তি ‘শ্যাম সুন্দর নবরত মন্দির’ (মঠবাড়ি মন্দির) এখন জরাজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায়। প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো ৬০ ফুট উঁচু টেরাকোটা ফলক খচিত পিরামিড আকৃতির এই মঠ মন্দির প্রাচীন স্থাপত্যের অপ‚র্ব নিদর্শণ হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে  দেখা গেছে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মঠবাড়ি মন্দিরটি সংস্কার ও সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবী। তাহলেই মঠবাড়ি মন্দিরটি এ জেলার আরও একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। মন্দিরটি সংস্কার করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।

স‚ত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের জানুয়ারীতে প্রত্মতত্ত¡ বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক ও পুরাতত্ত¡ বিষয়ক লেখক মো. মোশাররফ হোসেন ও বিশিষ্ট লেখক জ্যোতির্ময় মলিকসহ খুলনা জাদুঘরের ৭ সদস্যের একটি টিম ‘শ্যাম সুন্দর নবরত মন্দির’ (মঠবাড়ি মন্দির) পরিদর্শন করেন এবং মন্দির সংশ্লিষ্টদের সাথে কথাও বলেন। এলাকাবাসীর দাবী, প্রত্মতত্ত¡ বিভাগ যদি মন্দির গুচ্ছের সংস্কার ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয় তাহলে প্রকৃতির অপ‚র্ব পুরাকীর্তি ‘শ্যাম সুন্দর নবরত মন্দির’ (মঠবাড়ি মন্দির) আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

কিন্তু বিগত ৯ বছরেও কলারোয়ার মঠবাড়ি মন্দিরটি আজও সংস্কার বা সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শ্যাম সুন্দর মন্দির: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্বতাত্তি¡ক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান। সাতক্ষীরা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার ও কলারোয়া উপজেলা সদর ৭ কিলোমিটার দ‚রে অবস্থিত এ মন্দিরটি। স্থনীয়ভাবে মন্দিরটিকে সোনাবাড়ীয়া মঠ নামেও ডাকা হয়। যদিও মন্দিরটির দেয়ালে খোদাই করে লেখা রয়েছে ‘শ্যাম সুন্দর নবরত মন্দির’। শ্যাম সুন্দর মন্দির এর নির্মাণ প্রসঙ্গে দুরকম মত পাওয়া যায়। কেউ কেউ মনে করেন, ৪০০ বছর-এর বেশ কিছু প‚র্বে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বুদ্ধদেবের শিষ্যরা এই মন্দিরটি তৈরি করেন।

এরপর ধর্ম প্রচারে ব্যর্থ হয়ে প্রচারকগণ যখন চলে যান তখন মন্দিরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭৬৭ সাল থেকে তৎকালীন জমিদার সেটিকে ব্যবহার শুরু করেন। তারা ছিলেন ম‚লত দ‚র্গাপ্রিয় চৌধুরীর জমিদারের প‚র্বপুরুষ। আবার কেউ কেউ মনে করেন, মন্দিরটি ১৭৬৭ সালে জমিদার হরিরাম দাশ বা দ‚র্গাপ্রিয় চৌধুরীই নির্মাণ করেছিলেন। শ্যাম সুন্দর মন্দিরের আশেপাশে আরও প্রায় ৯টি মন্দির ছিল বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। তিনতলা বিশিষ্ঠ পিরামিড অবয়বের এই মন্দিরটির উচ্চতা ৬০ ফুট। প‚র্বে এই মন্দিরের প‚র্ব দিকে স্থাপন করা ছিল কষ্টি পাথরের তৈরি ১২টি শিবলিঙ্গ।

এছাড়াও দোতালায় ছিল স্বর্ণের তৈরি রাধ-কৃষ্ণ ম‚র্তি। মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে ইট ও সুড়কি ব্যবহারের মাধ্যমে। শ্যাম সুন্দর মন্দিরের পাশে আরও দুটি মন্দির রয়েছে যেগুলো দুর্গা ও শিবের প‚জা করার জন্য ব্যবহার করা হত। এই তিনটি মন্দিরের সামনেই রয়েছে একটি ছোট দীঘি। মন্দিরটির দ্বিতীয় তলার আয়তন ৩১.১ ফুট ৩২.৯ ফুট এবং তৃতীয় তলার আয়তন ২৪.৬ ফুট*২৩.৬ ফুট।

এছাড়াও মন্দিরের নীচ তলার চারটি ভাগের ২য় ভাগের মন্ডপের প‚র্ব ও পশ্চিম অংশের দৈর্ঘ্য ২০.২ ফুট ও প্রস্থ ৪.৫ ফুট। তৃতীয় ভাগে রয়েছে দুটি কক্ষ। এলাকাবাসী আমাদের প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, ‘প্রাচীন এই মন্দিরগুলো তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা ও ইতিহাসের সঙ্গে জুড়ে। কিন্তু রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে সেগুলি জীর্ণ। ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে তৎকালীন ইতিহাস ও স্থাপত্যরীতি তুলে ধারার জন্যই সেগুলিকে সংরক্ষণ করা উচিত। কিন্তু সেই কাজ কবে শুরু হবে, তা কেউ জানে না।