রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং, দুপুর ১:০৭
শিরোনাম :
সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, থাকতে পারে আরও পাঁচ দিন তুরস্কের পর কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল পাকিস্তান বরিশাল জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত সুদানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় শিশুসহ নিহত ২৭ নরসিংদীতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য-অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২৩৭ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল বরিশালে ‘মা ও শিশু উৎসব’ অনুষ্ঠিত পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক বরিশাল সদর উপজেলা বিনির্মাণে ইউএনও ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে নেপালের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারবে মিম?

সৌম্য গঙ্গোপাধ্যায়,কলকাতা প্রতিনিধি  করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, ঘূর্ণিঝড় আমফান, লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন লড়াইয়ের দিকে যতই সারা ভারতের নজর থাকুক না কেন, রাজনীতি কিন্তু থেমে নেই। লকডাউনের জন্য প্রকাশ্য সমাবেশ, মিছিল না হলেও, অনলাইন সভা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে নেতা-নেত্রীরা দলীয় কর্মী বা সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন।

কারণ, ভোট বড় বালাই। করোনার জন্য পিছিয়ে গিয়েছে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের সব পুরসভা নির্বাচন। বছর ঘুরলেই আবার বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে এখন রাজনৈতিক শক্তি দু’টি- তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপি। ২০১১ সালে ক্ষমতায় এলেও, ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তার আগে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ভাল ফল করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেই হিসেবে এক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক দল তৃণমূল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত মমতার প্রতিপক্ষ কোনও দলই ছিল না। কংগ্রেস ও বামেরা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি জেতে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু’টি আসন পেলেও, ভোটের শতাংশের হারে অনেকটা এগিয়ে যায় বিজেপি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তৃণমূল দারুণ ফল করে।তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিজেপি চমকে দেয় সবাইকে। ফলে মমতার কপালে চিন্তার ভাঁজ।

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা ২০০৮ থেকেই বামফ্রন্ট বা বলা ভাল সিপিএমের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়ে আসছেন। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোট ভাগ হলেও, মুসলমানদের ভোটের বেশিরভাগটাই একটা দলই পেয়ে থাকে। তৃণমূল এর ফলে লাভবান হয়েছে।

উল্টোদিকে মমতার বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তুলে বিজেপি হিন্দু ভোট একত্রিত করার চেষ্টা করছে। যদিও সেই চেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি। এরই মধ্যে গত বছর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম। ভারতের রাজনীতিতে মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যতম জনপ্রিয় নেতা ওয়েইসি। তিনি হায়দরাবাদের বাইরে অন্য শহর বা রাজ্যগুলিতেও বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। ফলে মুসলমানদের ভোট তৃণমূলের কাছ থেকে মিমের দিকে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

পশ্চিমবঙ্গের মিম নেতাদের দাবি, তৃণমূলকে মুসলমানরা ভোট দিলেও, ক্ষমতার কেন্দ্রে হিন্দুদেরই প্রাধান্য। মুসলমানদের কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে। সেই কারণে তাঁরা নিজেরাই এবার ক্ষমতা দখল করতে চান। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা করোনার জন্য থেমে গিয়েছে, তার ফলে লাভবান হতে পারে মিম।

পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় মুসলমানদের ভোটই ফল নির্ধারণ করে দেয়। সেই ভোট যদি তৃণমূল না পায়, তাহলে মমতার পক্ষে জেতা মুশকিল। আবার রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুসলমান ভোট ভাগ হলে সুবিধা হতে পারে বিজেপি-র। মমতা গত বছর অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি-র সুবিধা করে দিতে চাইছে মিম।

যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করে দেন ওয়েইসি। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। হাত গুটিয়ে বসে নেই তৃণমূলও। কিন্তু নেপথ্যে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে ওয়েইসির দল। যদি তারা তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে, তাহলে জয় নিশ্চিত। কিন্তু যদি বিজেপি, তৃণমূল, মিম আলাদা লড়াই করে, তাহলে সেটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলছে।