শুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ ইং, সন্ধ্যা ৬:৫১
শিরোনাম :
হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো: খাইরুল আলম হাইওয়ে পুলিশ প্রধান এর সাথে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করলেন কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: খাইরুল আলম হাইওয়ে পুলিশ এর ১৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত অতিরিক্ত ডিআইজি মো: খাইরুল আলম এর সাথে কুমিল্লা রিজিয়নের ২২ থানার অফিসার ইনচার্জদের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর কুমিল্লায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করলেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি খাইরুল আলম স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: খাইরুল আলম বগুড়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ টাকা চুরি বেনজীরের দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে : দুদক জলবায়ু মোকাবিলায় ‘লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়নস’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রী জম্মুতে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বহনকারী বাসে হামলা, নিহত ১০

আজ মহীয়সী কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন

ডেক্সরিপোর্ট  দেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামাল। প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের এই স্বপ্নদ্রষ্টার জন্মদিন আজ। জননী সাহসিকা হিসেবে খ্যাত কবি বেগম সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।

কবি সুফিয়া কামাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন সমাজসেবী ও নারীনেত্রী। যে সময়ে সুফিয়া কামালের জন্ম তখন বাঙালি মুসলিম নারীদের গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হত। স্কুল-কলেজে পড়ার কোনো সুযোগ তাদের ছিলো না। তার পরিবারে উর্দু, আরবি, ফার্সি চর্চা ছাড়া বাংলা ভাষার প্রবেশ একরকম নিষিদ্ধ ছিল। সেই বিরুদ্ধ পরিবেশে সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি পারিবারিক নানা উত্থানপতনের মধ্যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হন।

১৯২৪ সনে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে সুফিয়ার বিয়ে দেওয়া হয়। নেহাল অপেক্ষাকৃত আধুনিকমনস্ক ছিলেন, তিনি সুফিয়া কামালকে সমাজসেবা ও সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, সংগ্রাম করেছেন সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি নারীমুক্তি, মানবমুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, অংশ নিয়েছেন প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে।

তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ছায়ানট, কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন। দেশবিভাগের পূর্বে তিনি নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার সাপ্তাহিক বেগম এর প্রথম সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।