বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, সন্ধ্যা ৬:৩৪

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীর বিদায়

ডেক্সরিপোর্ট  ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবীর দেবালয়ে ফেরার দিনে ঢাকের বাদ্য আর অশ্রুভেজা ভালোবাসায় তাকে বিদায় জানালেন মর্ত্যের বাসিন্দারা।

ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় ‘আনন্দময়ীর’ নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনে তার সাঙ্গ হলো সোমবার।

‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে দেবী দুর্গা এক বছরের জন্য ফিরে গেলেন ‘কৈলাসের শ্বশুরালয়ে’; সমাপ্তি হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনেই বেলা দেড়টায় বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে বনানী জাকের পার্টির হিন্দু ফ্রণ্ট পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর যে শোভাযাত্রা হবে না, তা আগেই জানানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, এ বছর ঢাকা মহানগরে দুশর বেশি মণ্ডপে পূজা হয়েছে। সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে। যার যার মতো করে এসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জন দেবে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি নৌপুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

২২ অক্টোবর ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার দেবীর আগমন ঘটেছিল দোলায়। ভক্তদের অঞ্জলি আরতি গ্রহণ করে আজ গজে বিদায় নিলেন দেবী। গজে বিদায়ের তাৎপর্য হলো– ‘শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা’, অর্থাৎ ফলে-ফসলে সমৃদ্ধ হবে দেশ। এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ২১৩ পূজার মণ্ডপ হয়েছে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। এবার ঢাকা মহানগরে পূজা হয়েছে ২৩২টি।