শনিবার, ৬ই মার্চ, ২০২১ ইং, সকাল ৭:৩১

বরিশালে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুর মায়ের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আরওবি

প্রিন্স তালুকদার: আকাশটা হেসে ওঠে শিশুর হাসিমুখ দেখে, সন্ধ্যার মেঘমালা সেই হাসি গায়ে নেয় মেখে। সকালের সোনা রোদ নেচে ওঠে, গেয়ে ওঠে পাখি, শিশুর হাসিকে আমি মুঠো মুঠো জমা করে রাখি। গাছেরাও বোঝে আহা শিশুদের আধো আধো কথা, শাখা আর পল্লবে বৃক্ষের সে কী আকুলতা। শিশু হেসে উঠলেই জানালায় জোছ্‌নার টোকা, ঘাসফুল কাশফুল সব ফুল ফোটে থোকা থোকা। নদীতে জোয়ার আসে শিশুদের হাসি কলতানে, শিশুদের রূপকথা নদী ও সাগরগুলো জানে। চাঁদের আলোয় থাকে শিশুদের হাসি ঝিকিমিকি, শিশুর গল্পগুলো আকাশের চাঁদ জানে ঠিকই। পৃথিবীটা হেসে ওঠে যখন একটা শিশু হাসে, আলোর ঝালরগুলো শিশুর হাসির সাথে আসে। শিশুর হাসিতে আহা মুক্তোরা ঝরে রাশি রাশি, প্রকৃতি সবুজ হয় যদি থাকে শিশুদের হাসি। শিশুদের হাসি আমি সব চেয়ে বেশি ভালোবাসি।

কিন্তু আট মাসের শিশু বায়েজিদ হাসছে না, হাসবে কি করে? ও তো এক বিরল রোগে আক্রান্ত।

পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার ঘোষের টিকিকাটা ইউনিয়নের বেসকি গ্রামের জালাল সরদার রুটি রোজগারের জন্য স্বপরিবারে পাড়ি জমান বরিশালের ১০ নং ওয়ার্ডের সিএন্ডবি কোয়ার্টারে। স্ত্রী রুমানা বেগম অন্যের বাসায় কাজ করে আর জালাল সরদার করোনা সংক্রমণের আগে ফুটপাতে সিঙ্গারা বিক্রি করে শিশু বায়েজিদের চিকিৎসাসহ দশ বছর ও চার বছরের অন্য দুই সন্তানদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার দিতেন। শিশু বায়েজিদের চিকিৎসায় ইতিমধ্যে দেড় লাখ খরচ করে নিঃস্ব হয়েছেন। ফুটপাতের সিঙ্গারা ব্যবসাও শেষ। দিনমজুরের কাজ করে কোনভাবে দিনযাপন করছেন। থমকে আছে শিশু বায়েজিদের চিকিৎসা।
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সিএন্ডবি কোয়ার্টারের জালাল সরদার ও রুমানা বেগমের ছেলে মােহাম্মদ বায়েজিদের জন্ম থেকেই তার মাথা দেহের তুলনায় অস্বাভাবিক বড়। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে হতাশ দিনমজুর জালাল। তিনি জানান, গত ৪ জুন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জন্ম হয় বায়েজিদের তখন থেকেই তার মাথার আকৃতি পুরাে শরীরের চার ভাগের তিন ভাগ। এভাবেই বড় হতে থাকে।
বরিশালের শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বায়েজিদের মাথায় অস্ত্রোপচার করে এর চিকিৎসা করতে হবে। তবে তা রাজধানীর নিউরােসায়েন্স হাসপাতালে করতে হবে। সে জন্য ওই হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এই চিকিৎসায় ২ লাখ টাকার মতাে খরচ হতে পারে। দিনমজুর জালাল সরদার জানান, বায়জীদের চিকিৎসায় এরই মধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। করােনার কারনে, বন্ধ হয়ে গেছে ফুটপাতে থাকা সিঙ্গারা বিক্রির ব্যবসা। এরপর দিনমজুরীর কাজ করে এখন কোনাে রকমে সংসার চালাই। ছেলের চিকিৎসা চালানাের মতাে টাকা নেই। রুমানা বলেন, বড় দুজনের খরচ ও ছােট ছেলের চিকিৎসা- সব মিলিয়ে হিম শিম খাচ্ছি। এমন অবস্থায় বায়জিদের মায়ের আকুতি, সকলের সহযােগিতায় বাচ্চার চিকিৎসা ব্যবস্থা। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- ০১৭৩৫৮০২০৪৩ (বিকাশ), সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর- ১১৩৭১২১১৮১৬৯১৭৮ মার্কেনটাইল ব্যাংক, বরিশাল শাখা।

বরিশালে বিরল রোগে আক্রান্ত বায়েজিদের মায়ের পাশে দাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত দানের অপেক্ষায় বরিশাল (আরওবি)। সংগঠনের সহ প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ কবির মাহমুদ খান (রাজ), সমন্বয়ক ও বরিশালের মানবিক পুলিশ ফরিদ হোসেন, সমন্বয়ক মিলন খান ও সমন্বয়ক সুমা আক্তার অনুদান পৌঁছে দেন।

উল্লেখ্য, শিশু বায়েজিদ হাইড্রোসেফালাস নামক বিরল রোগে আক্রান্ত। এ রোগ সম্পর্কে ডাঃ ফারহানা ফরহাদ নিপা জানান, হাইড্রোসেফালাস হল এক ধরনের মস্তিষ্কের রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের গহ্বর বা ventricle এর Subarachnoid space এর মধ্য অবস্থিত CSF (cerebro spinal fluid) এর মান শোষনের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন শুরু হয় ৷ ফলে ব্রেইনের মধ্য অতিরিক্ত CSF জমা হতে থাকে এবং মাথা বিশালকৃতি ধারন করে ৷ এটি যেকারো হতে পারে কিন্তু মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায় ৷ যদিও এখনও পর্যন্ত এর তেমন কোনো চিকিৎসা জানা যায় নি ৷ একমাত্র Brain Surgery সাহায্যে একে সঠিক করা যেতে পারে ৷