বুধবার, ৩রা মার্চ, ২০২১ ইং, সকাল ৮:৪৮

স্যার আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন: প্রধানমন্ত্রী

ডেক্সরিপোর্ট  করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এবার সশরীরে শহীদ মিনার যেতে না পারায় এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২১ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বছরই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে যখন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সাহেবের হাতে পদক তুলে দেওয়া যে আমার জন্য কত সম্মানের এবং গৌরবের ছিলো, কিন্তু আমার দুঃখ এখানে যে আমি নিজের হাতে দিতে পারলাম না।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক প্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্যার, আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি করোনা ভাইরাসের কারণে আসলে… প্রধানমন্ত্রী হলে সব স্বাধীনতা থাকে না। অনেকটা বন্দিজীবন যাপন করতে হয়। সেই রকমই আছি। কারণ আমি এক জায়গায় যেতে গেলে আমার সাথে বহু লোক। নিরাপত্তার লোক, অমুক লোক-তমুক লোক, প্রায় হাজার খানেক লোককে রাস্তায় দাঁড় করায়, নানাভাবে তাদেরকে কাজে লাগায়। তাদের কথা চিন্তা করেই কিন্তু আমি আসতে পারিনি। তবু আমি অভিনন্দন জানাই আপনাকে।’

একইসঙ্গে অন্যান্য যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের প্রতিও আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক হিসাবেই এটা সবসময় থাকা ভালো। যারা এই পুরস্কারটা পেলেন মনে করি-এটাও একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হল যে, আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে গুণীজনের সম্মান এবং ভাষার প্রতি সম্মান দেখাতে পারলাম।’ এছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ক্যাটাগরি-দুইয়ে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোকেও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ছাড়াও খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা এই পুরস্কারে ভূষিত হন। আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে উজবেকিস্তানের নাগরিক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ ও বলিভিয়ার অনলাইনভিত্তিক সংগঠন অ্যাক্টিভিজমো ল্যাঙ্গুয়াজ এই পুরস্কারে ভূষিত হন।