সোমবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং, ভোর ৫:৫৪
শিরোনাম :
বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ এখনো সক্রিয় বরিশালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ জাতীয় দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হিসেবে যোগ দিলেন আহমেদ বায়েজিদ মঠবাড়িয়ায় চোরের হামলায় অটো চালক জখম বরিশাল পেশাজীবী ফোরামের দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিযান, অফিস ছেড়ে পালালেন কাজী আরাগচি-গালিবাফকে হত্যার ছক ইসরায়েলের, ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ুগত কারণে জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা বরিশালে শুরু হচ্ছে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ, কোর্স সম্পন্ন হলেই নিয়োগ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে বন্ধ্যা পুরুষ মশা

ডেক্সরিপোর্ট:বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন উদ্ভাবিত স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক (এসআইটি) নামের এই পদ্ধতি শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

শনিবার দুপুরে সাভারে পরমাণু শক্তি কমিশনের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পদ্ধতিটির বিভিন্ন কারিগরি দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে গিয়ে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

পরমাণু শক্তি কমিশনের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কিট জীবপ্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা ডেঙ্গু বিস্তারকারী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

ওই গবেষণাগার পরিদর্শন গিয়ে মন্ত্রী উদ্ভাবিত পদ্ধতি নিয়ে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পদ্ধতিটি শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রী এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা মন্ত্রীকে জানান, ডেঙ্গু নিরসনে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক (এসআইটি) পদ্ধতির প্রায়োগিক বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসআইটি পদ্ধতিতে পুরুষ জাতীয় এডিস মশাকে গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ করা হয়।

উক্ত মশা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন এলাকায় অবমুক্ত করা হলে তা প্রকৃতিতে বিদ্যমান স্ত্রী এডিস মশার সঙ্গে মিলিত হয় এবং ওই স্ত্রী এডিস মশা যে ডিম/লার্ভা নির্গত করে তা থেকে এডিস মশার বংশবিস্তার হয় না। এসব ডিম/লার্ভা নিষিক্ত না হওয়ায় মশার পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকে।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। পাশাপাশি এটি একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি, তাই পরিবেশে এর কোনো বিরূপ প্রভাব নেই। এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র বন্ধ্যা পুরুষ মশাই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। যেহেতু পুরুষ মশা ডেঙ্গুর জীবাণু বহনে অক্ষম, তাই এর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তদুপরি পুরুষ এডিস মশা মানুষকে কামড়ায় না।

এই পদ্ধতিকে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং কার্যক্রমটি গতিশীল করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. সানোয়ার হোসেন, পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এম. আজিজুল হক, এনআইবির মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ, এইআরই এর বিভিন্ন ইন্সটিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।