নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন,করোনা মোকাবেলায় কোন ছাড় নয়,এটা আমাদের জীবনের প্রশ্ন, এটা আমাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন, এটা আমাদের দেশ রক্ষার প্রশ্ন।
“মাস্ক পরার অভ্যেস করোনা মুক্ত বাংলাদেশ”এই স্লোগান কে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেঙ বুধবার ৩১ মার্চ সকাল ১১ ঘটিকায় বরিশাল নথুল্লাবাদ (কেন্দ্রীয়) বাস টার্মিনালে পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিকদের সাথে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন পুলিশ কমিশনার বিএমপি মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার।

এ-সময় তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনসচেতনতা মূলক সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিক সহ সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে করোনার সুরক্ষা। আবার করোনা পরিস্থিতিতে নিজের হাতই আমাদের বড় শত্রু। আমাদের আচরণ এর উপরে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপরে করোনা পরিস্থিতি নির্ভর করে।
করোনা মহামারীতে সারাবিশ্বে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। দেশের অর্থনীতি, মানুষের জীবিকা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। আমরা একটি অস্বাভাবিক বিপর্যস্ত সময় অতিক্রম করছি। তাই সর্বত্র আমাদেরকে অক্ষরে অক্ষরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার্থে আপনারা যেই সচেতন ভূমিকা রাখবেন এটাই হল দেশপ্রেম।
আজ দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে এদেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে, পরিবহন সেক্টরের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে, আপনি এই বিপদে কি ভূমিকা রাখলেন, কতটা স্বাস্থ্যবিধি নিজে মেনে চাললেন এবং অন্যকে মেনে চলতে উৎসাহিত করলেন এটাই আপনার আসল পরিচয়। এটাই আপনার দেশপ্রেম।
এ সময় তিনি বলেন, হঠাৎ করেই করোনার প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকারে বেড়ে যাচ্ছে। গত ১০ দিনে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বিগত বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি সময়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রামিত করার ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে পূর্বের চেয়ে প্রায় ৭০ ভাগ বেশি। তাই নিজের জীবন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, দেশ ও দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।
বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশন সহ যেখানে গণজমায়েত বেশি হয় করোনা মোকাবেলায় সেগুলিই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। আর আপনারাই করোনা প্রতিরোধের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যেন বাস টার্মিনাল এর মধ্যে বা গনপরিবহনে কেউ মাস্ক ছাড়া প্রবেশ না করে, নো-মাস্ক নো-সার্ভিস। গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী তুলতে হবে।

দেশের এ মানবিক বিপর্যয়ে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব ছাপিয়ে মানবিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য ও দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের আপনাদের কাছে ছুটে আসা, আপনাদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলা।
এ-সময় অতিঃ পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম মাস্ক ব্যবহার সহ করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর গুরুত্বারোপ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রধান করেন।
মাস্ক বিহীন বিভিন্ন পথচারীদেরকে এ সময় মাস্ক পরিয়ে সচেতন করেন, পুলিশ কমিশনার বিএমপি সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার পিপিএম-সেবা বলেন,আমাদের জীবন নিয়ে হেলা খেলা করার কোন সুয়োগ নেই।করোনা প্রতিরোধে নিজে সচেতন হোন,পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করে তুলুন।আমাদের মাঝে অনেক রকম ভ্রান্ত ধারনা ও গুজব প্রচলিত রয়েছে।গরীবের করোনা হয়না এরকম গুজবে কান দিবেননা।করোনা কাউকে দেখেশুনে আক্রমন করবেনা।করোনা যাতে না ছড়ায় তার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হল মাস্ক পরা।সুতরাং মহামারি করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করুন। যে যার যার অবস্থান থেকে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যান।নিজে সচেতন হোন পরিবারের সদস্যদের সচেতন করে তুলুন।
সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক রবিউল ইসলাম শামীম এর সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর মোঃ মনজুর রহমান, পিপিএম-বার,মোঃ জিয়াউর রহমান, উপ-পরিচালক(ইঞ্জি), বিআরটিএ, বরিশাল বিভাগ, বরিশাল। গোলাম মোশরেক বাবলু, সাধারন সম্পাদক, বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপ, মোঃ ফরিদ উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক, বরিশাল জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন,কিশোর কুমার দে, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক,বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ সকল শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ