বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং, রাত ১১:৩৬
শিরোনাম :
ঈদুল আজহা সামনে রেখে শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পরও গুলির আঘাতে ভুগছেন জিয়াউদ্দিন সিকদার, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায়! বরিশালে ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সোনালী ব্যাংক দুমকিতে শ্রী-শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের ১০১ সদস্যের প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন বরিশালে মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাংবাদিক সংস্থার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়,কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেলেন ১০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মে দিবসে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের কাছে ইরানের নতুন প্রস্তাব

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে ক্যাম্পাসের বাস চান

নিজস্ব প্রতিবেদক  করোনায় সেশনজটের থাবায় শিক্ষাজীবন যখন ঝুঁকির মুখে ঠিক তখনই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালেয় মতো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও (ববি) উদ্যোগ নিয়েছিল সশরীরে ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার। কিন্তু পুনরায় সরকার লকডাউনে স্থগিত হয় পরীক্ষা। এমতাবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। একে তো হলে থাকার সুযোগ নেই, তার ওপর লকডাউনে সব যান চলাচল বন্ধ।

এমতাবস্থায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ক্যাম্পাসের বাস সার্ভিস চালু করে বাড়ি পৌঁছানোর দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ, বগুড়া থেকে আসা উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তাহের, নেত্রকোনা থেকে আসা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত সারওয়ার খান, যশোর থেকে আসা রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সম্পা রয়, রাজবাড়ী থেকে আসা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিফা আক্তার, সিলেট থেকে মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আল ফারিউল শিক্ত, পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে আসা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান।

এছাড়াও আটকে পড়েছেন গণিত বিভাগের মাহবুব খান ও কুয়াকাটার মহিপুর থেকে আসা হিসাববিজ্ঞান বিভাগের রিফাত লিমনসহ আরো শতাধিক শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা দিতে এসে আটকে পড়া গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিক হাসান লিংকন বলেন, আমার বাসা জামালপুর। পরীক্ষার কারণে বরিশালে আসা। হলে থাকতাম, এখন তো হল বন্ধ। কয়দিনের জন্য বন্ধুদের মেসে উঠেছিলাম। বরিশাল থাকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বাড়ি যেতে চাই, কঠোর লকডাউনে সেটাও সম্ভব নয়। এরইমধ্যে আমার কয়েক জন সহপাঠী কোভিড পজেটিভ। মেছে থাকার কারণে হয়তো আমিও আক্রান্ত হয়ে যেতে পারি। কী করবো, বুঝতে পারছি না। এ অবস্থায় আমরা যারা বরিশালে আটকা পড়ে আছি, তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়াটা মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একান্ত দায়িত্ব।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত সারওয়ার খান বলেন, ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা বলেছিলেন, এই বছরের মার্চে পরীক্ষা হবে কিন্তু আবার এই কঠোর লকডাউনের কারণে নাস্তা নাবুদ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল, তারপর স্যারেরা আবার ডেট দিয়ে বললো যে জুনের দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষা হবে। সবাইকে বরিশাল আসতে বলা হলো, আমরাও আসলাম ফের বাসা ভাড়া নিলাম, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় সরকার কঠোর লকডাউন দিয়ে দিলো। এখন পরীক্ষা দেব কি, বাড়ি যাওয়া নিয়ে টেনশনে আছি। ক্যাম্পাসের বাস চাই।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া চূড়ান্ত পর্বের (সেমিস্টার ফাইনাল) পরীক্ষা সশরীরে শুরু হয় এবং ২৭ জুন দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।