বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, সকাল ৯:৫৮

ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানানো উচিত: হাইকোর্ট

ডেস্করিপোর্ট  পি কে হালদারকে গ্রেফতার করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারণ সে এদেশের চিহ্নিত অর্থপাচারকারী।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এদিন আদালত পি কে হালদার বিষয়ে জারি করা রুল শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। এর আগে পি কে হালদারকে গ্রেফতার করে দেশের ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা ও রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

সোমবার প্রশান্ত কুমার হালদার ভারতে গ্রেফতারের বিষয়টি আদালতকে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, পি কে হালদারকে গ্রেফতারের বিষয়টি হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে আদালত বলেছে- অর্থপাচারকারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আদালত আরও বলেন যে যতবড় রাঘব বোয়াল হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে এ ঘটনায় (গ্রেফতার) সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আদালত।

আদালতের বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, পি কে হালদারকে গ্রেফতারের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন- আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার, দুর্নীতি ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অর্থপাচারকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের ব্যাপারে আমরা খুবই সিরিয়াস।

২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কিংবা গ্রেফতারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

আমিন উদ্দিন মানিক চলতি বছর জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, পি কে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পরেন, সেজন্য ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয় দুদক। ডাকযোগে পাঠানো সেই চিঠি এসবি পায় ২৩ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টায়। পরে এসবি সে চিঠি দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকারী ইমিগ্রেশন ইউনিটকে পাঠায়।

ইমিগ্রেশন ইউনিট ওইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সেই নির্দেশনা পায়। কিন্তু তার ঘণ্টা দুই আগে বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ছেড়ে যান।

গুঞ্জন ছিল, পি কে হালদার ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে পাচার করেন। তিনি কানাডায় গিয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছেন। কিন্তু গত শুক্রবার হঠাৎ করেই খবর আসে, পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে অভিযানে নেমেছে ভারতের আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পরদিনই খবর আসে ৫সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।