ডেস্করিপোর্ট শুধু বাস্তব এবং দৃশ্যমান অবকাঠামোও নয়। ১৬ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার ফসল। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের নতুন এক পরিচয়। দেশের আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতার একটি প্রতীক। গর্ব ও আকাঙ্ক্ষার সেই প্রতীকটি হচ্ছে ‘পদ্মা সেতু’।
এ সেতুর ফলে বছরে দশমিক ৮৪ শতাংশ দরিদ্রতা হ্রাস পাবে এবং জিডিপিতে এক দশমিক ২৩ শতাংশ অবদান রাখবে। শুধু তাই নয়, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি বড় ভূমিকা রাখবে। এশিয়ান হাইওয়েতে-১ (তামাবিল-সিলেট-ঢাকা-পদ্মা সেতু-যশোর-বেনাপোল) সরাসরি যুক্তের মাধ্যমও এ সেতুটি।
এর আগে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিস্তারিত সমীক্ষা, নকশা প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসে বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঋণ চুক্তি সই করে বাংলাদেশ।
কাজ শুরুর আগেই দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগে দাতা সংস্থাগুলো ঋণ চুক্তি বাতিল করলে ২০১২ সালের ৯ জুলাই এক বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই পদ্মা সেতুর বিভিন্ন কম্পোনেন্টের ঠিকাদার নিয়োগ শুরু হয়।
২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর মূল সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর এই সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দিতে কাল শনিবার নিজ হাতের তৈরি এই সেতুর উদ্বোধনও করবেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশের পর সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট ও স্যুভেনির শিটের উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি টোল দিয়ে সেতু পার হয়ে জাজিরায় গিয়ে সেখানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। দুই পারেই সেতুর ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।