ডেস্ক রিপোর্ট ।। আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করেন শওকত হোসেন হাওলাদার।১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তখন বিএনপি সংসদ সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদারের হাত ধরে বিএনপিতে যোগদেন শওকত হোসেন হাওলাদার।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আততায়ীর হাতে শহীদ হওয়ার পর রুহুল আমিন হাওলাদারের সাথে হাতমিলিয়ে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। সেই সময়ে জাতীয় পার্টির দাপটে জোরপূর্বক কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি ছিনিয়ে নেন তিনি।
চেয়ারম্যান হওয়ার পরে তিনি সালিস মিমাংসার নামে চালাতো নিষ্ঠুর নির্যাতন। তার নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে কয়েকজন বেছে নিয়েছিল আত্মহত্যার পথ। তার ভয়ে আতংকে তখন শিশু কিশোর বৃদ্ধাদের কেটেছে চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে, একাধিক সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে গড়ছেন বিশাল বাগান বাড়ি, সেই জমির সঠিক কাগজ না থাকয় কারনে তহসিলদারকে চোখ রাঙ্গিয়েও এখনো পর্যন্ত রেকর্ড সংশোধন করাতে পারেনি এছাড়াও নামে মাত্র দাম দিয়ে জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন কলসকাঠী বাজারের একাধিক দোকান ঘর। স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পরে নিজে পরিষদের চেয়ার ঠিক রাখতে আবার বিএনপিতে যোগদান করেন।
এ যোগদান বিএনপি বা সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য নয়, শুধুমাত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারটি আয়েস্থে রাখার জন্য। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান দায়ীত্বে থেকে নিজে কোটি কোটি টাকা ও কয়েকশ বিঘা জমির মালিক হলেও তার সাথের নেতাকর্মীরা হয়েছে নিঃস্ব।
দরবেশ খ্যাত শওকত হোসেন হাওলাদার কখনোই সক্রিয় ভাবে বিএনপিকে শক্তিশালী করার জন্য বা বিএনপির কোন সংসদীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করে নাই। অনেকটা দ্যায় সাড়া ভাবে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাক্ষ মরহুম ইউনুস খানের নেতৃত্বে দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু ৯৬ সালে বিএনপি নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি আবার নিজের রুপ পাল্টাতে শুরু করে এবং মহাজোট সরকারের এমপি রুহুল আমিন হাওলাদারের সাথে সক্ষতা তৈরি করে যাহা এখনো চলমান। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি মাসুদ রেজার সঙ্গে তেমন একটা মানিয়ে নিতে না পেরে প্রতিপক্ষ শামসুল আলম চুন্নুর ছত্র ছায়ায় আশ্রয় নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন খাঁনকে পরাজিত করতে শওকত হোসেন হাওলাদার তার ভাইদের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নুর নির্বাচন করেন।
কিন্তু গনজোয়ারে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে বিজয়ী হওয়ার পর, সুকৌশলে তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে পুনরায় কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারটা আবার দখল নেয়। এরপর দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারটায় বসতে না পেরে শৈশবের মায়ায় ২০২৪ সালের আওয়ামীলীগের পাতানো নির্বাচনেও মহা জোটের মনোনীত নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল হাফিজ মল্লিকের নির্বাচন সহায়তা করে, লক্ষ্য ছিলো ইউনিয়ন পরিষদের বড় চেয়ারে বসার। অথচ নিজ দলের নেতাকর্মীদের মতামতের সামান্য গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় শওকত হোসেন হাওলাদার দলিয় পদ পজিশন হারান, এমনকি তার বংশের কারো কোন দলীয় পদ পদবী না থাকলেও তার ছেলে, ভাইয়ের ছেলে, ভাগ্নেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক আইডি ও একাধিক ফেক আইডি দিয়ে অনবরত কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মানহানিকর ও খুন যখমের হুমকির পর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে ও যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে হুমকি দিয়ে বলছে কলসকাঠী ইউনিয়নে বিএনপি করতে হলে শওকত হোসেন হাওলাদারকে মেনেই বিএনপি করতে হবে।
কলসকাঠী ইউনিয়নের এই সুবিধাভুগী শওকত হোসেন হাওলাদার এর পরিবার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা বাঁচাতে চায়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ধ্বংস করার জন্য দীর্ঘদিন তিনি একের পর এক গ্রুপিং তৎপরতা চালাচ্ছে যা এখনও চলমান রেখেছেন।
১/১১ থেকে এখন পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির ভিতর যে গ্রুপিং চলছে তার মহানায়কের ভুমিকায় এই শওকত হোসেন হাওলাদার। ২০০১ সালে আবুল হোসেন খান (বরিশাল ৬) বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির মনোনীত দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পরেও কলসকাঠী বাজারে অধ্যক্ষ আঃ রশিদ খানের স্লোগান দিতে দিতে গলা শুকিয়ে ফেলতো। অথচ যে লোকটা বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির জন্য হামলা মামলা জেল জুলুম উপেক্ষা করে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন ২৫ বছর ধরে সেই ত্যাগীনেতা আবুল হোসেন খানকে তিনি আজও মেনে নিতে পারেননি।
শওকত হোসেন হাওলাদার আবুল হোসেন খাঁনকে জিম্মি করতে আওয়ামীলীগের এক অংশকে সব সময় লিলিয়ে দিয়ে তার যে কোনো প্রোগ্রাম বানচাল করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া কলসকাঠী ইউনিয়নের সাধারণ ব্যবসায়ি ও সংখ্যালগুদের ভয়ভীতির মাধ্যমে ফায়দা লুটেছেন।
এমন নোংরা কৃতিত্বের পরিচয়ে তিনি উপজেলা জুড়ে একটা গ্রুপিং সৃষ্টির নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে, যা দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এত কিছুর পরেও উদর মানসিকতার পরিচয় দিয়ে দলের নির্দেশ পালনে বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান তার জন্য দিন রাত সমান তালে প্রচার প্রোচনায় অংশ নিয়েছেন। এরপরও অকৃতজ্ঞ শওকত হোসেন হাওলাদার দলের মধ্যে গ্রুপিং জিইয়ে রাখতে একেরপর এক নিল নকশার নোংরা মানষিকতার আশ্রয় নেন। তারই অংশ হিসেবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগের উৎখাত ঘটলে তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে আবারও মাঠে নেমে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে নিজের একাছত্র অধিপত্যে বিস্তার করতে শুরু করে। একাজে তিনি খোদ আওয়ামী লীগের এক অংশ ব্যবহার করেন। সম্প্রতি কোটা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে গত ৯-৮-২০২৪ ইং তারিখ দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে শওকত হোসেন হাওলাদারের নির্দেশে তার বড় ছেলে কামাল হাওলাদারের নেতৃত্বে ৭০/৮০ জন সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা দেশীয় অস্ত্রে সর্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাইদুল ইসলাম শামীম, কলসকাঠি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আমীন মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নুরউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন বক্স, কোঠা বিরোধী আন্দোলনের সদস্য নাইমুর রহমান মিতুলকে মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন।
এছাড়াও অতিথি আপ্যায়নের ১৫ শতাধিক বিরানি প্যাকেট নষ্ট করা, ডেকরেটরের মালামাল ও মোবাইল ভাংচুর সহ নগদ টাকা ছিনতাই করে প্রায় ৫ লক্ষ্যধিক টাকার ক্ষতি সাধন করছেন। এমন ঘটনায় হতবিহ্বল নেতাকর্মী দ্রুত ঘটনা স্থল ত্যাগ করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
তারা পুনরায় আক্রামনের ভয়ে গৃহহীন হয়ে যাযাবর জীবন বেছে নিয়েছেন।
এ বিষয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা জানিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উপর ন্যাক্কার জনক হামলার উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।