ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেইন্ট বাংলাদেশ এর আয়োজনে গণসাক্ষরতা অভিযান এর সহযোগিতায় শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: নাগরিক সমাজের করনীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় বরিশাল নগরীর সি এন্ড বি রোডস্থ সেইন্ট বাংলাদেশ এর প্রশিক্ণ কেন্দ্রে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(সার্বিক) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ আহসান হাবিব।বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, ইউনিসেফ বরিশাল ফিল্ড অফিসের সিএফও মোঃ আনোয়ার হোসেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো-সায়েন্স অনুষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক লুসিকান্ত হাজং।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক চাপ, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, পরিবারিক আয় হ্রাস, মাইগ্রেশন, বিদ্যালয় ত্যাগ ও শিশুশ্রমের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে বাল্যবিবাহ বা অভিবাসনের দিকে ঝুঁকছে, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বড় বাঁধা তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে সৃষ্ট এই বিপর্যয় ভবিষ্যতে “অর্থনৈতিক টাইম-বম্ব” হিসেবে কাজ করবে, কারণ শিক্ষার ক্ষতি সরাসরি উৎপাদনশীলতা ও আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং দারিদ্র্য-দুর্দশার চক্র আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে।তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে জলবায়ু-সহনশীল করতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে শিক্ষা খাতে দুর্যোগ-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা শক্তিশালী করা, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে জলবায়ু-সহনশীল নকশা অনুসরণ করা, স্কুল বন্ধের সময়ে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রিমোট লার্নিং, পুনঃভর্তি কার্যক্রম ও শিক্ষা প্রণোদনা চালু রাখা এবং ছাত্র-শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় নাগরিক সমাজ এবং এনজিওগুলো নীতি-অ্যাডভোকেসি, রাজনৈতিক অঙ্গিকার হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা, নিয়মিত তদারকি, জিও-এনজিও সমন্বয় বৃদ্ধি, কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা উপকরণ সহায়তা, টিউশন ফি কমানো, সর্বজনীন মিড-ডে মিল ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কারিগরি শিক্ষায় ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, পর্যটন শিল্পের প্রসারে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়ী উদ্দ্যোগে নগদ অর্থ সহায়তা, শিক্ষকসহ বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দূর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা, স্থানীয় সরকারকে কাজে লাগানো, বায়ু দূষণ রোধে ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এবং টেকসই অভিযোজন উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণ সহনশীল ফসল চাষ, নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা, শিশুশ্রম প্রতিরোধে বিশেষ প্রণোদনা, জলবায়ু তহবিল বাস্তবায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন (Need Assesment) করে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ গ্রহণ করাসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়াও সভায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,স্কুল কলেজের শিক্ষক,বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীবৃন্দ।