কলকাতা প্রতিনিধি কলকাতার শাশুড়িকে খুন করে আত্মঘাতী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অমিত আগরওয়াল। তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃত অমিতের সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। ৬৭ পাতার এই সুইসাইড নোটে পাওয়া গিয়েছে শ্বশুর-শাশুড়ি সহ তিনজনের নাম। সেখানে শ্বশুরবাড়ির প্রতি অমিতের রাগের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরই দায়ী করেছেন তিনি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, রবিবার জোর করে ব্যাঙ্গালোরের ফ্ল্যাটে ঢুকে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে অমিত। এরপর পাশের ঘরেই ছেলেকে নিয়ে সারারাত কাটান অমিত। মায়ের কথা জানতে চাইলে, ছেলেকে বলেন মা কলকাতায় গিয়েছে, আমরাও যাব। রাত একটা নাগাদ কলকাতায় ফেরার জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। সোমবার দুপুর দেড়টার ফ্লাইট ধরে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। ছেলেকে বেলঘরিয়ায় দাদার বাড়িতে রেখে যান কাঁকুড়গাছির শ্বশুর বাড়িতে।
পাশাপাশি, ব্যাঙ্গলোরের হোয়াইট ফিল্ডের অভিজাত আবাসনে অমিতের স্ত্রী শিল্পীর মৃতদেহের পাশ থেকেও উদ্ধার হয়েছে একই ধরনের একটি নোট। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি সম্ভবত বেআইনি। সন্তানকে বেলঘরিয়ায় দাদার বাড়িতে রেখে আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে কাঁকুড়গাছির শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন অমিত। সেখানে ঝগড়া চলাকালীন সেভেন এম এম পিস্তল থেকে গুলি চালিয়ে শাশুড়িকে খুন করেন তিনি। এর আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫ বছর আগে শিল্পী ঢনঢনিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় অমিতের । তাঁরা থাকতেন ব্যাঙ্গলোরে। ২ বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা রুজু হওয়ার পর, হুগলির উত্তরপাড়ার বাড়িতে চলে আসেন অমিত। তবে মাঝেমধ্যেই মামলার শুনানির জন্য যেতেন ব্যাঙ্গলোরে। এবার মামলার শুনানি নাকি, স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করে সেখানে যান, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।