ডেক্সরিপোর্ট:বহুল আলোচিত দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন-২০১৯’ বিল পাস করেছে সংসদ।
বিদ্যমান আইনে চাঁদাবাজী, যান চলাচলে বাধাদানসহ ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির দায়ে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
বিলটি পাশের বিরোধীতা করে বিরোধী দল বিএনপির হারুন অর রশীদ ও রুমিন ফারহানা এবং গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমনের লক্ষ্যেই এই দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বাড়ানোর বিলটি সংশোধনী আকারে সংসদে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
বিলটি উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এই বিলের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলেন, এই আইনটির অধীনে এক হাজার ৭০৩টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনটির মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য আইনটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করেন।
এর আগে ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের জন্য আইনটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। গত ৯ এপ্রিল আইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২০০২ সালে প্রথম ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২’ সংসদে পাস হয় এবং দুই বছরের জন্য তা কার্যকর হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে ৬ বার এ আইনের মেয়াদ দুই বছর করে বাড়ানো হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখে এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধে সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর পর্যন্ত করা হয়।
এছাড়া এই আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ নিষ্পত্তি করার বিধান আছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।